Sunday, 24 October 2021

নেপোটিজম - ঋজু






এই যে ছেলে ! তুই বেশতো আছিস ওনার নেপো হয়ে
ভিড়ের মধ্যে নিজের তরে সুখটা খুঁজে নিয়ে,

ও দাদা --- আরে ও দাদা শুনুন শুনুন 
ভালোই চলছে অতীত নিয়ে !!নেই কোন দুরাবস্থা!!!
পদলেহনে মত্ত আমি- না হয় হলাম খানেক সস্তা ??

এদিক-ওদিক কান দেই না- শুধু কাজটা আমি করি
বুঝলেন,আমি এদিক-ওদিক কান দেই না, শুধু কাজটা  নিজের করি--
দিনের শেষে আহ্লাদে আমি গুরুর চরণ ও ধরি!

পরের দিনে আবার মাখি- কালি  আমার মুখে
দাদা!!পরের দিনে আবার মাখি- কালি  আমার মুখে
আমার জীবন চলছে ভালোই আছি আমি খুব সুখে ।

তাই ,কাঙ্ক্ষিত ভাষা নগ্ন শরীরে করে গেছে শুধু নৃত্য
দিনের শেষে পরিচয় মোর পা চাটা এক ভৃত্য ।

কি বলেন ? ভৃত্য?? পরিচয়টা বড্ড ভালো শুনে হলাম আপ্লুত!
দেখছি ,তোমার ন্যায় নীতিবোধ একেবারে যে হয়েছে গত।

দাদা!!! আমি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা এক টুকরো খানি মাংস
বারবার সেথা খেয়েছি খোঁচা তবুও -ছাড়িনি আমার অংশ..
বুঝলেন, তবু ছাড়বোনা আমার অংশ।

তাই ,ওই খানেতে হারিয়ে ফেলেছি আমার লেখার ছন্দ
কলম ভেঙেছি বারবার আমি ভুলে গেছি ভালো-মন্দ,

আমার চিন্তা লোভের বশে- চুপিসারে রাখি বন্ধক
তাই আধার আমার বড্ড প্রিয় -ভয় করি দিবালোক!

হৃদয় আমার স্বপ্নে ঠাসা -আসলে কর্মবিমুখ
তবু স্বল্প সময়ে সুখের পরশ -পেতে আমি  উৎসুক,

গুরুর দেওয়া তিরস্কারও সিক্ত করেনি স্বার্থ
বুঝলেন,গুরুর দেওয়া তিরস্কারও সিক্ত করেনি স্বার্থ
ক্ষতি কি আছে? সত্তা বিলিয়ে -না হয় পেলাম কিছুটা অর্থ!!!

তাই ,দিনের শেষে সবাই নেপো এই জীবন যুদ্ধ টাতে
তাই দিনের শেষে ! সবাই নেপো এই জীবন যুদ্ধ টাতে
আমার গুরু সেও নেপো -অন্য কোন পাতে।।

                              

মানবতার অবক্ষয় - ডাঃ অসিত কুমার সরকার




সমাজে মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, 
রাস্তায় শুয়ে থাকা অনাথ শিশুর গায়ে মানবতার স্পর্শ লাগেনি, 
মানবতা আদি যুগ থেকে ধুলো মাটি মেখে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে পড়ে আছে, 
সভ্যতার পদদলিতে মানবতা পিষ্ট হচ্ছে, 
মানবতা রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে, 
সমাজে এখনো মানবতার দৃষ্টি  পড়েনি ।। 
দুমুঠো ভাতের সন্ধানে পাগলী মেয়েটি আজ গর্ভধারিনী 
ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! এতো অচল অবস্থা সমাজের!! 
তবে কি সুশীল সমাজে মানবতা আজও আসেনি??? 
সভ্যতার হাত ধরে কলিযুগে এসেছে তোলাবাজি, 
ব্যাভিচার লম্পট ছলনার কারবারি, 
তাই আধুনিক সভ্যতায় মানবতা আসেনি।।। 
ওই দেখ মানবতা আসছে খুড়িয়ে, 
মানবতার হাত ভাঙা!! পা ভাঙা!! 
রক্ত মাখা সারা অঙ্গ জুড়ে, 
ওই দেখ মানবতা আসছে চারিদিকে মস্তক ঘুরিয়ে।।। 
একি হাল মানবতার??? 
আজ মানবতা অসুস্থ, 
নিভু নিভু প্রায়!!! 
এই সুশীল সভ্যতায়, 
এই আধুনিকতায়, 
সবকিছু যাচ্ছে এগিয়ে, 
শুধু মানবতার হচ্ছে অবক্ষয়।

রহস্য - পরেশ চন্দ্র দাস


মাকড়সার জালে আবদ্ধ হৃদয়—
ততক্ষন বেঁচে আছি ! যতক্ষন মাকড়সা আসেনি তার বাসায় ।
ঘড়ির পেন্ডুলামটার মতো জীবন,
যতক্ষন চলে ততক্ষন ঠিক ।
মরু বালির বাঁধ শিখিয়ে দেয় অধিকার, তবুও সচল থাকবার-
বালী'র মতো অভিপ্রায় মাত্র।
মরীচিকার জলে স্নান করবার উদ্দীপনা, কূর্মের ডিম পাড়ার সামিল ।
মগজ ধোলাই চলছে অহরহ বিপদকে
সরবত করে গেলাচ্ছে এক শ্রেণীর গোখুরো ।তার মস্তক হেলমেটে মোড়া।
এক বিষাক্ত ধোঁয়াশার পরিমন্ডলে
পেন্টু্লামের ফিতে ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
              

মানবিকতা - রিয়া মিত্র

 


চাঁদিফাটা গরমে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ধূপকাঠি বিক্রি করছে পরিমল। এত রোদে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। পা যেন আর চলছে না।
সামনেই একটি বড় তিনতলা ফুলের বাগান দিয়ে সাজানো সুন্দর বাড়ি দেখে কিছু বিক্রির আশায় সে ভিতরে ঢুকল। বেল বাজাতেই বাড়ির কর্ত্রী দরজা খুলে জিজ্ঞাসা করলেন, কী চাই?
-- আজ্ঞে, ধূপকাঠি কিনবেন? খুব ভালো গন্ধ....
তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই কর্ত্রী বললেন, না, না, নেব না। দুপুরবেলা কেন বিরক্ত করেন, বলুন তো?
পরিমল শুকনো মুখে বলল, ঠিক আছে, দিদিভাই। একটু জল হবে?
কর্ত্রী চেঁচিয়ে বললেন, দুপুরবেলা এসে মানুষের বাড়িতে চুরি করার ধান্দা?
মুখের ওপর দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিমল মনে মনে ভাবে, পৃথিবীতে মানবিকতা শেষ হয়ে গেছে। ক্লান্ত-মুখে গেট খুলে বেরোতে যাবে, এমন সময় গেটের পাশের ছোট টালির ঘর থেকে একটি ছোট বাচ্চা মেয়ের গলার আওয়াজ শুনে থমকে দাঁড়ায় সে, কাকু, এই নিন একটু জল-বাতাসা।
পরিমল অবাক হয়ে তাকাতেই মেয়েটি হেসে বলল, আমি এই বাড়ির মালীর মেয়ে। আমি শুনছিলাম, আপনি বলছিলেন যে, আপনার খুব জল পিপাসা পেয়েছে। এ'টা খেয়ে নিন। শরীর ঠাণ্ডা থাকবে।
পরম তৃপ্তিতে জল-বাতাসা খেতে খেতে পরিমল ভাবলো, এখনো মানবিকতা মরে যায় নি.....



সময়ের দৌড়ে মানবতার অবক্ষয় - রীতা রায়


পৃথিবী ছুটছিল  .. দিন থেকে সন্ধ্যা ..
সন্ধ্যা থেকে রাত ..রাত পেরিয়ে আবার সকাল | পৃথিবীর ঘূর্ণনের মাত্রা অনুসরণ করে মানুষও ছুটছিল কারন তারা এতদিনে জেনে গেছে নিজেদের অস্তিত্বের লড়ায়ে এগিয়ে থাকতে হলে ছুটতেই হবে | এই ছোটার নেশা ক্রমে এতটাই প্রবল হয়ে পড়লো যে ক্রমশঃ তারা ভুলতে বসলো তাদের সীমা | সামনে যত বাধা নিমেষে বিলুপ্ত করতেও তাদের দ্বিধা বোধ হলোনা | ফলে প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ালো তাদের আকাঙ্ক্ষা | একাংশ  মানুষ যখন উদগ্রীব হয়ে প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে আকাশটাকে  ..আর একদল মানুষ তখন পিছিয়ে পড়তে লাগলো | এই রেষারেষীর নাম দিল 'ইঁদুর দৌড়' | কিন্তু ইঁদুরেরা কখনো নিজেরা নিজেদের প্রজাতিকে বিনষ্ট করতে একে ওপরের সাথে বিরোধিতা করেনা | তবু, বদনামটা  তাদের নামেই ব্যবহার হলো | আবার মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচারের নামে ব্যবহৃত বিশেষণ 'পাশবিকতা' | পশু কিংবা পাখি তারা কি নিজেদের মধ্যে খাদ্য বা অধিকার নিয়ে কাড়াকাড়ি করে ? একটি কাক কোথাও খাবারের সন্ধান পেলে কা কা রবে অন্য কাকেদের জানান দিয়ে তারপর খাবারে মুখ দেয় | কুকুরের দল একসাথে খাবার ভাগ করে খায় | বাঘ সিংহের মতো হিংস্র প্রাণীও একটি শিকার নিজের পেট ভরার পর অন্যদের জন্য ছেড়ে দেয় | ক্ষুদ্র জীব পিপীলিকা বা মৌমাছি কিংবা পঙ্গপাল .. এরা কি কখনো দলছাড়া থাকতে পারে ? মানুষও সমাজবদ্ধ জীব। একে অপরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা সত্বেও নিজেদের অধিকার ও আর্থিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি | নিজেদের প্রতিপত্তি বা প্রাধান্য বিস্তারের জন্য পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করতেও দ্বিধাবোধ করে না তারা |
তা সত্বেও তাদের নামের বিশেষণে 'মানবিক' শব্দটি ব্যবহার হয়ে আসছে | মানবিক বললেই সুস্থ সুন্দর সচেতন অনুভূতি চোখের সামনে ফুটে ওঠে .. আবার পাশবিক বললে একটা হিংস্র দুরাচার অত্যাচার .. এগুলোই বোঝানো হয় | কিন্তু পশুরা কী সবসময় হিংস্র ? তারা নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে কখনো কখনো হিংস্র হয়ে ওঠে | কিন্তু মানুষ তার লোভের বশে হিংস্র হয়ে ওঠে ..পরিচয় দেয় অমানবিকতার | মানবিকতার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন হয় না .. প্রয়োজন অনুভূতির , ভালোবাসার |
মানুষ দিন দিন ভুলতে বসেছে তাদের স্বকীয়তা | প্রতিনিয়ত হয়ে চলেছে মানবতার অবক্ষয়। আবার রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা মানুষে মানুষে নতুনভাবে বিভেদ সৃষ্টি করছে। 'মনুষত্ব' শব্দের অর্থ আজ বিলীন। ধর্মের অর্থও আজ বদলে গেছে। ধর্ম শব্দের অর্থ ন্যায় , আর অধর্ম শব্দের অর্থ অন্যায়। আধুনিকযুগে এসে অনেকগুলো ধর্মগুরু সৃষ্টি হওয়ার ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ তৈরী নিয়মকে ন্যায়ধর্ম ও অন্যান্যদের নিয়মকে অন্যায়ধর্ম মনে করতে লাগলো আর তখনি 'ধর্ম' শব্দটা বিভেদ সৃষ্টি করলো মানুষে মানুষে। কিন্তু এ ধারণা ভুল। মানুষের ধর্ম 'মনুষ্যত্ব'। মানবিক ধর্ম অবলম্বনই একমাত্র উপায় সুস্থ ও স্বাভাবিক পৃথিবী গড়ে তোলার। আর এভাবেই মানবতার অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব।
------===-------===-------===-----