Tuesday, 28 July 2020

কবিতা: শহর --সৌম্যজিৎ মান্না

কবি পরিচিতি : 


 সৌম্যজিৎ মান্না Assistant lecturer at seacom skills university.Civil engineering department.
ওরফে কবিবাবু। 
নিবাস: আমতা, হাওড়া। 
শব্দ, ছন্দ এটাই জীবনের অক্সিজেন।

-----------------------------🏵🏵-----------------------

🏵🏵 শহর 🏵🏵

আমি লেগে থাকি কৃষকের কাদামাখা হালে,আমি রক্ত ঝরানো ঘাম শ্রমিকের কপালে...আমি বিদ্রোহ, আমি চিৎকার করা লাখো মজদুরের স্বপ্ন,আমি ক্ষুধার অরণ্যে ভুখা পেট ভরানো অন্ন...আমি মৃত ভবিষ্যৎ,হেরে যাওয়া বেকারের চোখেআমি মিথ্যা আশ্বাস ওই কলুষিত নেতাদের মুখে...আমি পতিতালয়ের অন্ধকার,মানুষ যেথায় পণ্যআমি কবিতার ছন্দ, গানের সুর - তোমাকে জেতানোর জন্য...আমি মুক্তি,আমি স্বাধীনতা,আমি লড়াই করার অহংকারআমি জীবন-যুদ্ধে শিকল-ভাঙা প্রতিটি নারীর অলংকার...আমি বিপ্লব,আমি স্লোগান,আমি রাজপথে রক্ত ঝরানো মিছিলআমি প্রেম,আমি ভালোবাসা,আমি প্রিয়তমার বুকের আঁচিল...আমি মানুষ,আমি অমানুষ,আমি বারুদের শিরদাঁড়াআমি মিথ্যের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধে সত্যবাদী সর্বহারা...আমি লাশেদের জমায়েতে, বেঁচে ফেরা নতুন এক প্রহরআমি কাঁটায় মোড়া লাল গোলাপ, তোমার প্রাণের শহর...

------------------------------🏵🏵------------------------

কবিতা: মা --অনিতা রায় মুখার্জী

কবি পরিচিতি: অনিতা রায় মুখার্জী  একজন গৃহবধূ। তার ছেলে দীপ্তাংশু রায় মুখার্জী একজন প্রতিভাবান তরুন কবি, সেই সুবাদে তিনি সাহিত্য জগতে পদার্পণ করেন এবং লেখালিখিতে মনোনিবেশ করেন। সেই থেকেই সাহিত্য জগতের সাথে তিনি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। 

বর্তমানে তিনি প্রাঙ্গণ সাহিত্য পত্রিকারপ্রচার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাছাড়া আরও কটি পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত রয়েছেন।
----------------------------------------------------------

🏵🏵 মা 🏵🏵

তোমার কথা মনে পড়লেই মা আমার মনের মধ্যে ভেসে আসে তোমার সেই ভুবন ভোলানো হাসিমায়া মমতায় জড়ানো -----ভালোবাসার এক নিবিড় বাঁধন।তোমার জন্যই তো দেখতে পেয়েছিলামএই সুন্দর পৃথিবীর প্রথম আলো।তুমিই তো আমার কথামালারপ্রথম বর্ণপরিচয় ----তুমিই তো আমার অন্ধকার রাতেরআশার আলো ----তুমিই তো আমার চোখের মণিহৃদয়ের ধ্রুবতারা ----তুমিই তো আমার সকল সৃষ্টিরগভীর অনুপ্রেরণা ----তোমাকে দেখলেই দূর হয়ে যায়আমার সব দুঃখ- কষ্ট- যন্ত্রণা।তাই আজ মাতৃ দিবসের শুভলগ্নেপ্রার্থণা করি বারবার ---তোমাকেই যেন পাই মাতৃরূপেজীবনে মরণে শতরূপে শতবার।।

-------------------------------🏵🏵------------------------

কবিতা: মতবাদ --যাদব চৌধুরী

কবি পরিচিতি: যাদব কুমার চৌধুরীর জন্ম ১৯৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার চৌকী গ্রামে l প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামে l কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ১৯৭৬ সালে রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে l ১৯৮০ সালে রায়গঞ্জ কলেজ থেকে স্নাতক হন l ১৯৮৩ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম. এ. পাশ করেন l হাই স্কুলে শিক্ষক পদে যোগ দেন ১৯৮৩ সালে l মিল্কী হাই স্কুল, আড়াইডাঙ্গা ডি. বি. এম. একাডেমী হয়ে ইটাহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন l সাহিত্যচর্চা কলেজজীবন থেকে l "অঙ্গন" ও "অগ্রণী" নামে দুটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন l "উত্তরবঙ্গ সংবাদ" দৈনিকে মালদা জেলার প্রতিনিধি হয়ে সাংবাদিকতা করেছেন।


সাহিত্য আলোচনায় বিশেষ রুচি আছে l বহু পত্র-পত্রিকায় কবিতা গল্প প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে l "গল্পকথার গল্পগুচ্ছ" ও "গল্পের জাদুঘর" নামে দুটি গল্প সংকলনে গল্প প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে "কল্পপথে কাব্যরথে" নামে একটি একক কাব্যগ্রন্থ এবং ২০১৯ সালে "কল্পপথে গল্পরথে" নামে একক গল্পসংকলন প্রকাশিত হয়েছে l ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছে "প্রাসঙ্গিকতায় ভাষা ও সাহিত্য" নামে একটি প্রবন্ধগ্রন্থ
_______________________________________

🏵🏵 মতবাদ 🏵🏵


রাস্তায় পড়ে আছে অনেক দেহ
গোটা এবং খণ্ড বিখণ্ড 
আর পড়ে আছে ফেলে যাওয়া সম্পদ
জুতো, ছাতা, কাগজে মুড়ানো প্যাকেট
মানিব্যাগ, কিছু টাকা এমনি ছড়ানো
আর ছাপানো কাগজে কিছু মতবাদ
খানিক আগে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ছেড়ে
সাইরেনের শব্দে পালিয়েছে তারা
পড়ে আছে শুধু পরাজিতরা উভয়পক্ষে
দুটো পাথর, শুকনো দুটো ডাল
আকাশে বেলুন হয়ে ওঠে
ঘষে উঠলেই আগুন জ্বলে


__________________🏵🏵___________________

গল্প : সেই রাত --পূর্ণিমা বিশ্বাস

লেখিকা পরিচিতিঃঃ শ্রীমতি পূর্ণিমা বিশ্বাসজন্ম ১৯৯৫। স্বামী বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সংগীত শিল্পী ও সমাজ সেবক। স্নাতকোত্তর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। বি.এড (WBUTTEPA)। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, নাট্যকার এবং সংগীত শিল্পী। 


অবাণিজ্যিক পত্রিকা,ভয়েস, অঙ্কুর, কুসুম, মুক্তি ও বিভিন্ন ম্যাগাজিন প্রভৃতিতে নিয়মিত লিখে চলেছেন। তিনি মূলত গল্প লিখতে বেশি ভালোবাসেন ।তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প 'মণি', 'সেই মেয়েটি', 'বাল্য বিবাহ','আঠারো বছর', 'সৎ মা', 'শুচিবাই' প্রভৃতি।

----------------------------🏵🏵------------------------------

🏵🏵 সেই রাত 🏵🏵 

 রাত তখন একটা। যে সময়কে আমরা নিশুতি রাত বলে থাকি। কেমন ছম ছম লাগে শরীরের মধ্যে তাই না? হ্যাঁ, আমি সেই সময়ের কথাই বলছি। বাড়ির সবাই শুয়ে পড়েছে, ঘুমে বিভোর।তার ঠিক দুদিন আগে পাশের বাড়ির বৌদি গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে। সেই বৌদি আমাকে খুব ভালোবাসতো।বৌদি চলে যাওয়াতে কষ্ট হয়েছিল। আমি তো ভীষণ ভীতু তাই যখনই রাতে বাইরে বেরোতাম মা, দিদিকেডাকতাম। আমাদের বাড়িটা ছিল রাস্তার ঠিক পাশে।চার পাশটা তখন ঘেরা ছিলনা। সেদিন আমি রাতে বাইরে বেড়োনোর জন্য উঠেছিলাম। মা বা দিদিকে ডাকা সত্ত্বেও সেদিন কেউ ওঠেনি। বাধ্য হয়ে নিজেই বেড়িয়েছি ভীষণ ভয়ে ভয়ে।রাম রাম করতে করতে উঠোনের ঠিক মাঝ খানে গিয়েছি।ঘুমে আমার চোখ আটকে আসছিল, যেতেও কষ্ট হচ্ছিল তবুও গেলাম। বাথরুম করে আসতেই মাঝ উঠোনে দেখি লম্বা কি একটা জিনিস!হাত বাড়িয়ে আমাকে ডাকছে পুন্নি পুন্নি করে। চার পাশটা কেমন যেন আগুনের মতো জ্বলছে,তা দেখে আমি চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু কেউ সাড়া দিলো না।মা বাবা কেউ আমার ডাক শুনলো না। আমার গা ঠান্ডা হতে লাগলো; আর ঐ জিনিসটা যেন আমার দিকে এগিয়ে আসছিল। আমি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যেতেই কেউ একজন আমাকে ধরলো, কি গো কি হয়েছে? ঘুম ভেঙে দেখি পাশে আমার স্বামী; বলছে চিৎকার করছিলে কেন কাকে ডাকছিলে ? আমি তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।--------------------------🏵🏵------------------------------

প্রবন্ধ: মনের কথা --জীবন বর্মন

প্রাবন্ধিক পরিচিতিঃ জন্ম (৩০-০৪-১৯৯৬)ফুলবাড়ি, থানাঃ গঙ্গারামপুর, জেলাঃ দঃ দিনাজপুরফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পতিরাম উচ্চবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে ইংরেজি সাহিত্য চর্চা শুরু হয়। 

গঙ্গারামপুর কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছোটো থেকে।সাহিত্যকে ভালোবেসে কলম ধরা।------------------------------🏵🏵----------------------.
-------

🏵🏵 মনের কথা 🏵🏵      

  যদিও আমি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি তবুও সাহিত্য রচনার কথা কখনো ভাবিনি। শুধু মাত্র ডিগ্রি পাশ করার জন্য সাময়িক সাহিত্য চর্চা হয়েছে। বরাবরই  সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও মোহ ছিল না। তাই সম্পর্কও খুব একটা ভালো হয়নি। তবে ছেড়েও দিতে পারিনি। সব সম্পর্কের মধ্যেও সেটি বেঁচে আছে আজও। এখন বয়স হচ্ছে ধীরে ধীরে সংসারের দায়িত্ব কাধে এসে পড়ছে।  ছেলে বলে কথা। দায়িত্ব কি এড়ানো যায় পাশাপাশি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার অনবরত চলছে। এসবের মাঝে আজ আর সাহিত্য চর্চা করে ওঠা হয়না। তাই সাহিত্যের যাবতীয় বই বুকসেল্ফ এ তালাবন্দি। সত্যিই আজ আর সাহিত্যের বুলি ভালো লাগে না। ভালো লাগবেই কেন? সাহিত্য সত্যের কথা বলে, বলে সততার কথা, বলে মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠার কথা, মানুষকে বিবেকবান হতে বলে, মানুষ মানুষের জন্য এই সত্য তুলে ধরে। কিন্তু মনুষ্য জাতি যখন এর উল্টো পথে হাঁটে তখন কি আর একাই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই কথা শুনে অনেকেই বলবে কেন তুমিও কি তাদের মতো হবে। না তাদের মতো হবো না - হবো না বিবেকহীন, মানবতাহীন অসচেতন। কিন্তু বাঁচতে গেলে যে পেটে চারটে ভাত দিতে হয়। যদি নিজে নাই বাচি তবে সত্যের জন্য লড়াই করে কী হবে। ডারউইন বলেছিলেন "বাঁচার জন্য লড়াই"। সত্য চির সত্য। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেই লড়াই করে। কিন্তু বেচে যায় সে যে কৌশলকে অবলম্বন করে। তাই লড়াই করার পাশাপাশি কৌশলী হওয়াটাও খুবই প্রয়োজন। তাই আজ বাঁচার  তাগিদে সাহিত্যের চেয়ে কাজকে বড়ো ভালোবাসি। আজ সমগ্র বিশ্ব কোভিড-১৯ এ কাঁদছে। গোটা বিশ্ব আজ ঘরবন্দি। পেটে টান পড়েছে অনেকেরই। আরও পড়বে। করোনা হওয়ার আগে অনেকেই না খেয়ে মরবে। দেশ উজার হয়ে যাবে। সময় মানুষকে শিক্ষা দেয়। আজ যদি সাহিত্যের বুলি উড়াই তবে কি পেট চলবে, আমরা কি নিজেদের বাঁচাতে পারবো? বাঁচবো না মৃত্যু মুখে ঢলে পড়বো তাও জানি না। শুধু লড়াই নাকি সঙ্গে কৌশল? নাকি দুটোই প্রয়োজন?--------------------------------🏵🏵-----