Sunday, 5 April 2020

কবিতা - তুমি ছাড়া

"তুমি ছাড়া"
      --নূপুর আঢ‍্য


তুমি - আমার পান্তাভাতের সুমিষ্ট লবণ,
তুমি - আহারের পর তৃপ্ত ঢেকুর।
তুমি - শীতের সকালে একমুঠো রোদ্দুর
তুমি - তপ্ত দুপুরে একপশলা বৃষ্টি,
তুমি - হৃদয় জানালায় দখিনা হাওয়া।
তুমি - আঁধারের মাঝে জোনাকির আলো,
তুমি - জীবন সমুদ্রের সুদক্ষ নাবিক।
তুমি - মরুভূমির বুকে ঠাণ্ডা পানি,
তুমি - দূরের আকাশের রঙিন রামধনু,
তুমি - রাতের আকাশে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা।
তুমি - উদাস মনের রাখালিয়া বাঁশি,
তুমি - সরোবরে বিকশিত শুভ্র শতদল,
তুমি - ছাড়া আমি জল হীন মত্স‍্য।
তোমায় ছাড়া আমি সদাই অসম্পূর্ণ,
নেই আমার একটুকুও আমার আমিত্ব।

copyrights@ N Adhya
------------------------------------
শ্রী নুপুর আঢ্য 
কবি ও লেখক 
পশ্চিম মেদিনিপু,  পশ্চিমব,  ভারতবর্ষ   
------------------------------------


     Voice Literary Blog 
     Editor - Bijoy Sarkar 

       ..... Chief Organizer.....
          Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice------------------
 

এই বেশ ভালো আছি

"এই বেশ ভালো আছি"
    --সায়ন্তিকা ঘোষাল 

রক্তের কোষগুলো হঠাৎ করে জ্যান্ত হয়ে উঠেছে , বেশ নিজেকে বিপ্লবী - বিপ্লবী মনে হচ্ছে । এ সি চালিয়ে , গ্রীন টি খেতে খেতে পরকীয়া করছি ! সময় তো অঢেল ! স্নায়ুকোষটা ফেটে পড়ছে , আঙুলের ফাঁকের  বিষাক্ত মলিকিউল মিশে যাচ্ছে আমার শরীরের প্রত্যেকটা ইন্দ্রিয়তে ....তবুও মনে হয় আমি বেঁচে আছি ! 
আজকাল  বেঁচে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি ! কিন্তু কেন বেঁচে আছি ? ফ্যাকাসে জীবনে তো সব রঙই লাল! প্রেমিকের ঠোঁট থেকে খসে পড়া নক্ষত্র দিয়ে নিজের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছি ! বৃহন্নলা আমি ! পাশবিক অত্যাচারগুলো আজকাল আরাম দেয় ! বিপ্লবী করা পুরুষের কখনো আমি প্রেমিকা , কখনো গৃহিণী , কখনো শুধুই কাম্য আগুন ! 
তবুও বেঁচে আছি আমি ! আমাদের মতন নারীর তো বেঁচে থাকারই কথা ! দ্রৌপদী , সীতা , মীরা বাঈ , কাদম্বরী , নীরা কিম্বা হালফিলের আধুনিকা আ-মি বা আ-ম-রা ! উপত্যকার রুক্ষ নগ্নতা ছিনিয়ে নেয় আমাদের বস্ত্র , উর্বর জমির মালিকানা নিয়ে বচসা চলে ! তবুও আমি বৃষ্টি ভালোবাসি ! 
সোনাগাছি হোক কিম্বা সাউথ-সিটির বেডরুম --পুরুষ তুমিই মালিক ! জমির ওপর দিয়ে লাঙল চালাও , ধান ফলুক , নবান্ন উৎসব হোক ! আমিও সেদিন না হয় নতুন শাড়ী পড়ে পায়েস রাঁধবো ! 
মাঝেমাঝে মনে হয় বিপ্লব করবো ! স্লোগান লিখবো আমার নগ্ন শরীরে ! 
তখনই জানলার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় চাঁদ ---
মনে হয় বেশ আছি আমি ! 
হঠাৎ করেই একটা দমকা হাওয়া --গুমোট ঘরটাকে আরো বেশী করে নিঃসঙ্গ মনে হয় ! টেবিলের মোমবাতিটা নিভে যাবে হয়তো এবারে .....
ক্ষয়ে যাচ্ছে আশেপাশের সমস্ত আলোই ! 
একটা অস্বস্তি হচ্ছে শরীরে ! 
পুরুষ চাই আমারও --- তাহলে কিসের বিপ্লব ? 

ঘরে-বাইরের শেষ পৃষ্ঠার ওপরে চাপা দিয়ে রাখা মুঠোফোনে জ্বলে সবুজ আলো --ওপার থেকে ভেসে আসে আমার প্রেমিকের কণ্ঠ ........! 
তখন একবার জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে মনে মনে বলি ---"এই বেশ ভালো আছি !"

copyrights S Ghoshal 
--------------------------------------------------
শ্রীমতি সায়ন্তিকা ঘোষাল 
কবি ও লেখিকা 
হুগলি ,  পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষে  
--------------------------------------------------
     Voice Literary Blog 
     Editor - Bijoy Sarkar 

       ..... Chief Organizer.....
          Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice------------------
 

কবিতা - ভালোবাসি

"ভালোবাসি" 
--দেবযানী ঘোষাল 

কত মিষ্টি সুন্দর একটা শব্দ ....
কত রকম ভাবে ব্যবহৃত ঐ নিদারুন চার অক্ষরের শব্দটা ....
কত নির্ভেজাল , অকপট , শৃঙ্খলায় বুনন....
অথচ অনুভূতীর কত ফারাক ....
একে অপরের কাছে আদান প্রদানের মুহুর্তে .....
কেউ বিশেষ কাউকে  বলতে গিয়ে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয় l প্রতিদান যদি অনুকূলে থাকে , সে তো স্বর্গ প্রাপ্তির সমান ....
আবার কেউ সহজেই এক আকাশ সম গভীরতা নিয়ে বারেবারে বলতে পারে , ভালোবাসি ....
পার্থিব অপার্থিব সব কিছুই প্রাণবন্ত হয় ঐ একটা মাত্র শব্দের অনুপ্রেরনায় !
কিন্তু শব্দটা নিছকই যদি কথার কথা হয় ? পরিণাম কত ভয়ঙ্কর রূপ নেয় , তা ইতিহাস জানে l 
কখনো পজেটিভ .....
কখনো বা নেগেটিভ .....
তবু এই অদ্ভুত কাঙাল শব্দটার জন্য জীবকূলের প্রতি নিয়ত বেঁচে থাকার অকৃত্রিম সংগ্রাম .....
এতটুকু অনিহা ভাসিয়ে দেয় চোখ .....
ঘুরে যায় জীবনের মোড়....
এতটুকু আবেগী সমর্থন প্লাবিত হয় শূন্য মরু 
মন l
অথচ স্বার্থপর এই শব্দটাই আবার শুকিয়ে দেয় অযাছিত বিশ্বাসী তীর তীর তীর করে বহমান নদীটাকে , অনবরত ঝরে পরা ঝরনাটাকে , 
ঘন বনানীকে করে তোলে ফাঁকা জমি .....
ভালোবাসার স্বার্থে ....
তবু এই কাঙাল শব্দটার নিস্তার নেই ....
আকাঙ্খার মরুদ্দানে কলঙ্ক সহনীয় প্রগাঢ় বৈচিত্রে সুন্দর.....
" ভালোবাসি "

copyrights@ D Ghoshal 
 -----------------------------------
শ্রীমতি দেবযানী ঘোষাল 
কবি ও লেখিকা 
------------------------------------
     Voice Literary Blog 
     Editor - Bijoy Sarkar 

       ..... Chief Organizer.....
          Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice------------------

কবিতা

"সত্যের ব্যঙ্গচিত্র" 
--প্রসেনজিৎ মাইতি
"""""""""""""""""""""""""""""
আমি আসছি জীর্ণ সমাজ থেকে
যেখানে সত্য ম‍ানুষের বিবেক ভাঙে।

আমার মধ্যেই তৈরি করি নতুন পরিকল্পনা।

আমার প্রয়োজন স্বপ্ন ত্যাগি বিবেক চেতনা 
তা আমার অবলম্বনের জন্য।

নিশ্চয় আমার আলো আর আমার অন্ধত্ব,
কাটছে মায়াহীন সমাজ কে।
আর আমার দুঃখিত প্রয়াস
মিথ্যায় আবৃত প্রকাশ্য সমাজ কে।
যা কোনো মতবাদ থেকে পালানোর।

তাই,আমি ফিরি একটা সুন্দর সমাজের খোঁজে,
বহু পরিচিত সেই মিথ্যের উষ্ণতা ,
সেই সমাজ যা আমার দৃষ্টিকে করেছে ভঙ্গুর 
বিবর্ন গোলাপী চেতনা দিয়ে।

আমি পালিয়েছি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে,
ত্যাগ করেছি তাদের সুযোগ আর তাদের স্বপ্ন 
আর হঠাৎই নিজের অববয় দেখি দূষণ মুক্ত সমাজ
ভীষণ ভাবে বিকৃত। 

copyrights P Maity
 -----------------------------------

শ্রী প্রসেনজিৎ মাইতি 
কবি ও লেখক 
ভগবানপুর, পূর্ব মেদিনিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ 
------------------------------------
     Voice Literary Blog 
     Editor - Bijoy Sarkar 

       ..... Chief Organizer.....
          Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice------------------


গল্প

"তোমার চোখে আমার পৃথিবী" 
            --সিন্টু বর্মন

কি ভীষণ স্তব্ধ চারিপাশ। বরাবরের দুরন্তপনা ঘুড়িটাও কেমন দুরত্ব তারে আটকা। এ পৃথিবীর অসুখ করেছে খুব। এক চিলতে জানালার স্বাধীনতাও আজ ক্ষয়রোগে পঙ্গু। কতদিন হলো তোমারও কোনো খোঁজ পাইনা! আর অভিমান হয় না, জানো! রাগ তো কখনোই সেভাবে করিনি তোমার ওপর। শুধু আফসোস কিছু রয়ে গেছে বাকি!!

তোমার হাতের পাতায় ভীষণ অবাধ্য একখানা নদী আঁকতে চেয়েছিলাম। জোয়ার ভাঁটায় ব্যস্ত রাখতো তোমায়। তুমি উজানে পাল তুলে দিতে অবেলায়। আমি বলতাম, কত বেলা হলো! আমি ডুব দিয়ে আসি। তুমি ভাত বাড়ো। তুমি বলতে, এই তো, আর একটু! 

বুকপকেটে রেখে দিতে চেয়েছিলাম পকেট থেকে বের করে রাখা শুকনো গোলাপ। ভ্রূক্ষেপহীন তুমিও যাতে কোনোদিন বাড়ি ফিরতে দেরি হলে, নিয়মমাফিক মন কেমন'এর অজুহাত খুঁজে পাও! 
 
তোমার আঙুল জুড়ে রূপকথা সাজিয়ে কিংবা এলোমেলো ছড়িয়ে রাখার ভীষণ সাধ ছিল। আর তারপর, আমার শহরটা, চেনা গৃহকোণ, গল্পের বই, ব্যালকনিতে অ্যালোভেরা, অ্যাপ্লিক ওয়ার্কের টেবিল ক্লথটা... সবটুকু তোমার প্রিয় হতো খুব। 

একটা সাঁঝবাতি জ্বেলে রাখতাম তোমার কোলের কাছে রোজ। তুমি কবিতা পড়তে, আমি ছাদ থেকে নামিয়ে আনা জামা কাপড়ের ভাঁজে খুব যত্নে তুলে রাখতাম কিছু দামি অবসর। 

ঝগড়া হতো প্রায়ই। হতেই হতো। তা না হলে কিভাবে হঠাৎ বৃষ্টি নামতো রাতে? রাতভর বৃষ্টির পর শান্ত হতো পৃথিবী? ঘড়িতে অ্যালার্ম দিতে না তুমি। সব অভিমান ভুলে সময়ে আমিই ডেকে দিতাম ঠিক। 

রোদ নেমে গেলে গাছেদের ছায়া দীর্ঘতর হয়। মায়া জমে কোটরে কোটরে। এবার বাড়ি ফিরবার পালা। ফিরতেই হয়। তবু গাছের গায়ের গন্ধে ডুবে আরোগ্য ছুঁয়ে থাকতে চায় ভাঙাচোরা স্পর্শকাতর মন। 
আচ্ছা, যদি পাখি হয়ে যাই? আর তুমি গাছ? তবে নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরতে হলেও গাছের কাছেই ফিরে ফিরে আসা যায়!!

Copyrights@ S Barman 
 
 -----------------------------------
স্রী সিন্টু বর্মন 
লেখক 
গঙ্গারামপুর, দক্ষিন দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ

------------------------------------
     Voice Literary Blog 
     Editor - Bijoy Sarkar 

       ..... Chief Organizer.....
          Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice------------------