Tuesday, 28 July 2020

গল্প : সেই রাত --পূর্ণিমা বিশ্বাস

লেখিকা পরিচিতিঃঃ শ্রীমতি পূর্ণিমা বিশ্বাসজন্ম ১৯৯৫। স্বামী বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সংগীত শিল্পী ও সমাজ সেবক। স্নাতকোত্তর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। বি.এড (WBUTTEPA)। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, নাট্যকার এবং সংগীত শিল্পী। 


অবাণিজ্যিক পত্রিকা,ভয়েস, অঙ্কুর, কুসুম, মুক্তি ও বিভিন্ন ম্যাগাজিন প্রভৃতিতে নিয়মিত লিখে চলেছেন। তিনি মূলত গল্প লিখতে বেশি ভালোবাসেন ।তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প 'মণি', 'সেই মেয়েটি', 'বাল্য বিবাহ','আঠারো বছর', 'সৎ মা', 'শুচিবাই' প্রভৃতি।

----------------------------🏵🏵------------------------------

🏵🏵 সেই রাত 🏵🏵 

 রাত তখন একটা। যে সময়কে আমরা নিশুতি রাত বলে থাকি। কেমন ছম ছম লাগে শরীরের মধ্যে তাই না? হ্যাঁ, আমি সেই সময়ের কথাই বলছি। বাড়ির সবাই শুয়ে পড়েছে, ঘুমে বিভোর।তার ঠিক দুদিন আগে পাশের বাড়ির বৌদি গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে। সেই বৌদি আমাকে খুব ভালোবাসতো।বৌদি চলে যাওয়াতে কষ্ট হয়েছিল। আমি তো ভীষণ ভীতু তাই যখনই রাতে বাইরে বেরোতাম মা, দিদিকেডাকতাম। আমাদের বাড়িটা ছিল রাস্তার ঠিক পাশে।চার পাশটা তখন ঘেরা ছিলনা। সেদিন আমি রাতে বাইরে বেড়োনোর জন্য উঠেছিলাম। মা বা দিদিকে ডাকা সত্ত্বেও সেদিন কেউ ওঠেনি। বাধ্য হয়ে নিজেই বেড়িয়েছি ভীষণ ভয়ে ভয়ে।রাম রাম করতে করতে উঠোনের ঠিক মাঝ খানে গিয়েছি।ঘুমে আমার চোখ আটকে আসছিল, যেতেও কষ্ট হচ্ছিল তবুও গেলাম। বাথরুম করে আসতেই মাঝ উঠোনে দেখি লম্বা কি একটা জিনিস!হাত বাড়িয়ে আমাকে ডাকছে পুন্নি পুন্নি করে। চার পাশটা কেমন যেন আগুনের মতো জ্বলছে,তা দেখে আমি চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু কেউ সাড়া দিলো না।মা বাবা কেউ আমার ডাক শুনলো না। আমার গা ঠান্ডা হতে লাগলো; আর ঐ জিনিসটা যেন আমার দিকে এগিয়ে আসছিল। আমি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যেতেই কেউ একজন আমাকে ধরলো, কি গো কি হয়েছে? ঘুম ভেঙে দেখি পাশে আমার স্বামী; বলছে চিৎকার করছিলে কেন কাকে ডাকছিলে ? আমি তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।--------------------------🏵🏵------------------------------

প্রবন্ধ: মনের কথা --জীবন বর্মন

প্রাবন্ধিক পরিচিতিঃ জন্ম (৩০-০৪-১৯৯৬)ফুলবাড়ি, থানাঃ গঙ্গারামপুর, জেলাঃ দঃ দিনাজপুরফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পতিরাম উচ্চবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে ইংরেজি সাহিত্য চর্চা শুরু হয়। 

গঙ্গারামপুর কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছোটো থেকে।সাহিত্যকে ভালোবেসে কলম ধরা।------------------------------🏵🏵----------------------.
-------

🏵🏵 মনের কথা 🏵🏵      

  যদিও আমি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি তবুও সাহিত্য রচনার কথা কখনো ভাবিনি। শুধু মাত্র ডিগ্রি পাশ করার জন্য সাময়িক সাহিত্য চর্চা হয়েছে। বরাবরই  সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও মোহ ছিল না। তাই সম্পর্কও খুব একটা ভালো হয়নি। তবে ছেড়েও দিতে পারিনি। সব সম্পর্কের মধ্যেও সেটি বেঁচে আছে আজও। এখন বয়স হচ্ছে ধীরে ধীরে সংসারের দায়িত্ব কাধে এসে পড়ছে।  ছেলে বলে কথা। দায়িত্ব কি এড়ানো যায় পাশাপাশি নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার অনবরত চলছে। এসবের মাঝে আজ আর সাহিত্য চর্চা করে ওঠা হয়না। তাই সাহিত্যের যাবতীয় বই বুকসেল্ফ এ তালাবন্দি। সত্যিই আজ আর সাহিত্যের বুলি ভালো লাগে না। ভালো লাগবেই কেন? সাহিত্য সত্যের কথা বলে, বলে সততার কথা, বলে মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠার কথা, মানুষকে বিবেকবান হতে বলে, মানুষ মানুষের জন্য এই সত্য তুলে ধরে। কিন্তু মনুষ্য জাতি যখন এর উল্টো পথে হাঁটে তখন কি আর একাই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই কথা শুনে অনেকেই বলবে কেন তুমিও কি তাদের মতো হবে। না তাদের মতো হবো না - হবো না বিবেকহীন, মানবতাহীন অসচেতন। কিন্তু বাঁচতে গেলে যে পেটে চারটে ভাত দিতে হয়। যদি নিজে নাই বাচি তবে সত্যের জন্য লড়াই করে কী হবে। ডারউইন বলেছিলেন "বাঁচার জন্য লড়াই"। সত্য চির সত্য। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেই লড়াই করে। কিন্তু বেচে যায় সে যে কৌশলকে অবলম্বন করে। তাই লড়াই করার পাশাপাশি কৌশলী হওয়াটাও খুবই প্রয়োজন। তাই আজ বাঁচার  তাগিদে সাহিত্যের চেয়ে কাজকে বড়ো ভালোবাসি। আজ সমগ্র বিশ্ব কোভিড-১৯ এ কাঁদছে। গোটা বিশ্ব আজ ঘরবন্দি। পেটে টান পড়েছে অনেকেরই। আরও পড়বে। করোনা হওয়ার আগে অনেকেই না খেয়ে মরবে। দেশ উজার হয়ে যাবে। সময় মানুষকে শিক্ষা দেয়। আজ যদি সাহিত্যের বুলি উড়াই তবে কি পেট চলবে, আমরা কি নিজেদের বাঁচাতে পারবো? বাঁচবো না মৃত্যু মুখে ঢলে পড়বো তাও জানি না। শুধু লড়াই নাকি সঙ্গে কৌশল? নাকি দুটোই প্রয়োজন?--------------------------------🏵🏵-----

প্রবন্ধ : আমার প্রিয় মহাশ্বেতা --গুরুদাস বিশ্বাস

প্রাবন্ধিক পরিচিতি: কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক গুরুদাস বিশ্বাসের জন্ম ১৯৮২ সালে। উত্তরবঙ্গ ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডবল এম.এ ২০০৬, ২০১৭।  গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ এ বি.এড করেছেন। বি.লিস ২০১১ নেতাজী ওপেন। ২০১৩ সাল থেকে নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সহকারী শিক্ষকরূপে কর্মরত আছেন। বর্তমানে মহাশ্বেতা দেবীর ছোটো গল্প নিয়ে গবেষণায় রত।


অবাণিজ্যিক পত্রিকা 'ভয়েস',' পয়ার',' সাহিত্য দিশারী, 'কুসুম',' অঙ্কুর',' প্রাঙ্গন',' মুক্তি',' কবিতা কুঠির','' প্রভাতী',' পারিজাত', আল্পনা'র কবিতা,'বিশ্ববঙ্গ',' সৃষ্টি সুধা',' সত্যম শিবম সুন্দরম',' দুই কবি',' কবিতা বাসর' এবং বাণিজ্যিক পত্রিকা 'উত্তরবঙ্গ সংবাদ' প্রভৃতিতে লিখেছেন ।  বর্তমানে 'ভয়েস' সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন" এর উপদেষ্টা পদের দায়িত্বে রয়েছেন। সৃষ্টি এবং গবেষণার জগৎ কবির প্রাণ প্রিয়।-----------------------------

           ----------------------------


🏵🏵 আমার প্রিয় মহাশ্বেতা 🏵🏵🏵

বাংলা সাহিত্য জগতের ইতিহাস ভূমিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই আমরা দেখি গতানুগতিক ধারার সাহিত্য রচনায় পরিপূর্ণ লেখনী জগৎ। সেই গতানুগতিক ধারাকে অতিক্রম করে সত্তর, আশির দশকে মহাশ্বেতা দেবী গড়ে তুলেছেন সমাজের ব্রাত্য,পরিত্যক্ত ,পতিত,নিম্ন বর্গীয় জন জীবনের পৃথিবী। ছোট গল্প তটে লেখিকার এই সৃষ্টি যেন এক নতুন দিগন্তের জন্ম দিয়েছে। কল্লোল যুগে শৈলজা নন্দ, প্রেমেন্দ্র মিত্র যখন সবে সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণীকে সাহিত্যে রূপ দানের চেষ্টা করছেন,স্মরণ করিয়েদেয় সেই চেষ্টার পরিপূর্ণতা পায় মহাশ্বেতা দেবীর হাত ধরে। তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ লোধা,শবর সমিতির সদস্যা। তাঁর রচনায় সম্যক রূপে ফুটে ওঠে কোল, ভিল, মুন্ডা, ওঁরাও, আদিবাসী জীবন চিত্র। নিম্নবর্গ সবসময় উপেক্ষিত। সরস্বতীর পাদ প্রদীপের তলায় যে,নিম্নবর্গীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আসতে পারে একথা আমরা কল্পনাই করতে পারতাম না। সব সময় আমরা দেখি কোন গল্পের নায়ক হবে গ্রিক ট্র্যাজেডির মতো, শেক্সপিয়রের গল্পের নায়কের মতো সুমহান চরিত্র, বীরত্ব ব্যঞ্জক। তার একটা বংশ মর্যাদা থাকবে,বিশাল জ্ঞান থাকবে।কিন্তু একজন মাঝি, একজন বেদেনী, একজন সাঁওতালও যে হতে পারে সেটা তারাশঙ্কর এবং কল্লোল যুগ থেকে দেখতে পাচ্ছি। সেই ধারাকে বর্তমান সময়ে পাঠকের কাছে অতি সহজ সরল সাবলীল ভাষায় ঘটনার মধ্যে দিয়ে মহাশ্বেতা দেবী ছোটো গল্পের আকারে প্রেরণ করেছেন। তাঁর গল্পে আমরা 'নিম্নবর্গ' বা 'Subaltern' এর যে বাস্তব চিত্র পাই তা বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান।     

  আদিম মানুষ থেকে সামাজিক মানুষ হওয়ার সাথে সাথে;সমাজের কোলে জন্ম নিয়েছিল উচ্চবর্গ ও নিম্ন বর্গ। সৃষ্টি হয়েছিল সহজ ভাবেই দুই শ্রেণীর মধ্যে বিরোধ। একদিকে উচ্চবর্গের উচ্চাকাঙ্খা প্রতিষ্ঠার লড়াই, অন্যদিকে নিম্নবর্গের তা না মেনে নিয়ে বাঁচার লড়াই। যে বিরোধ সারাজীবনেও মেটার নয়।এ ভাবেই ব্রাত্য,শোষিত,পীড়িত মানুষের দলে নিম্নবর্গের স্থান লাভ। সমাজ গঠনে যে সকল মানুষ গুলো মূল কারিগর তাদের ইতিহাস আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই ইতিহাসকে বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই যেন সন্তান স্নেহে অবতীর্ণ হয়েছেন এদের পাশে কখনো ভগিনী কখনো অভিভাবক রূপে।তাদের অধিকার, প্রতিরোধ,প্রতিবাদ,প্রতিকার প্রভৃতি নিজের সমস্যা মনে করে কলম ধরেছেন আজীবন। তার গল্পে সেই চিত্র বার বার পরীক্ষিত হয়।           সামাজিক,অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক প্রতি ক্ষেত্রেই যে নিম্নবর্গ শোষিত হয়,সে বিষয় জানতে মহাশ্বেতা দেবীর কয়েকটি গল্পে আমরা প্রবেশ করি।    গ্রামের কৃষিজীবী এবং শহরের বস্তিবাসী আর্থিক দিক থেকে নিম্নবর্গের অন্তর্ভুক্ত। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় তাদেরকে যে চরম উপেক্ষার শিকার হতে হয় তার প্রমান মেলে'এইচ,এফ,৩৭:রিপোর্টাজ' গল্পে। গ্রামের পদ্মমনি শহরের বস্তিবাসী দিদি তারামনির বাড়িতে এসে মারা যায় ডাক্তার পুলিশ পদ্মমনির লাশ ময়না তদন্ত না করে ছাড়বে না বলে জানান। কিন্তু সে কাজে উদ্যোগী হওয়ার চেয়ে তারা (ডাক্তার, থানাবাবুপ্রভৃতি) তারামনির ছেলে বৈরাগীকে অহেতুক হয়রান করেন। থানাবাবু জেনে শুনে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাকে ঘোরান, বলে বিকেলের মধ্যে লাশ ময়না হয়ে পেয়ে যাবে বৈরাগী।অথচ থানাবাবু জানেন আজ আর ময়না তদন্ত হবে না এবং তিনি কোনো চেষ্টাও করেননি যাতে ময়না তদন্ত আজ হওয়া সম্ভব হয়। তাহলে এই ছেলেটিকে থানাবাবু এরকম প্রতারণা করতে পারেন কেন? কারণ-আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দিকথেকে বৈরাগী চরণ নাইয়া যে নিম্নবর্গের এবং সেই কারণেই তার উপর অন্যায় করা যাচ্ছে দ্বিধাহীন ভাবে তা লিখিকা এখানে স্পষ্ট করে দিলেন। এছাড়াও মহাশ্বেতা দেবীর অন্যান্য নিম্ন বর্গীয় মানুষের করুণ জীবন চিত্র লক্ষিত হয় যেমন 'হারুন সালেমের মাসি','দ্রৌপদী','বিছন','বাঁয়েন','পিণ্ডদান','বান','স্তন্যদায়িনী','সংরক্ষণ','নুন','রুদালী',সাঁঝ সকালের মা','নেশা','শনিচরী' প্রভৃতি গল্পে। তাই সম্যক রূপে নিম্ন বর্গের কথা জানতে আমাদের মহাশ্বেতা দেবীকে অধ্যায়ন প্রয়োজন।     -------------------------🏵🏵------------------

প্রবন্ধ : পাবজি ( PUBG) গেম ও যুবসমাজ - জয়দেব বেরা


প্রাবন্ধিক পরিচিতি:- জয়দেব বেরা একজন তরুণ কবি ও সাহিত্যিক , লেখক , শর্ট ফ্লিম অভিনেতা গল্পকার-চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক।পিতার নাম  রিন্টু বেরা ও মাতার নাম মানসী বেরা।তিনি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বৃন্দাবনপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। 


তিনি ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র। তিনি সমাজতত্ত্ব চর্চার পাশাপাশি কবি ও সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত।তাঁর লেখা বই গুলো হলো- "উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের সাফল্য","উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের প্রশ্ন বিচিত্রা","সমাজতাত্ত্বিদের ইতিবৃত্ত","কোভিড-১৯ ও সমাজতত্ত্ব","শিশুদের সমাজতত্ত্ব","কবিতার ভেলা","কবিতায় মার্ক্সবাদ","বাস্তবতা","জাগরণ"প্রভৃতি।এছাড়াও তাঁর লেখা একাধিক যৌথ কাব্যগ্রন্থ(ভারত ও বাংলাদেশ) রয়েছে।তাঁর পরিচালিত শর্ট ফ্লিম গুলি হলো-রক্তদান, প্রতারণা প্রভৃতি সহ ছিল আরও অন্যান্য ছবি।এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধরনের গান, গল্প,প্রবন্ধ প্রভৃতি রচনা করেছেন।তিনি CTN টিভিতে ও বিভিন্ন সাহিত্যের সভাগৃহে   সাহিত্য ও সমাজতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।সাহিত্যের লেখালেখির জন্য তিনি বেশ কিছু লেখনী সম্মানও (দুইরত্ন সম্মান,কল্পরত্ন সম্মান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্মান, কবিরত্ন সম্মান, মুকুর শারদীয়া সম্মান-২০১৯,মুকুর লেখনী সম্মান-২০২০, মুকুর সাহিত্য সংকল্প  সম্মান প্রভৃতি) অর্জন করেন।_____________________________________________ 


 ꧁পাবজি ( PUBG) গেম ও যুবসমাজ꧂        


   বর্তমান সময়ে যে গেমটির নামের সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত হয়ে আছি সেটি হল পাবজি (PUBG) গেম। এই গেমের সম্পূর্ণ নাম হল প্লেয়ার আননোনস ব‍্যাটল গ্রাউন্ড (Player Unknowns Battleground)। এই গেমটি আজ বিশ্বের অধিকাংশ যুবসমাজের কাছে অতিপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় সমস্ত যুবসমাজই আজ এই নেশাগ্রস্ত গেমের প্রতি আসক্তি হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ এই পাবজি নামক গেমটি সমস্ত যুবসমাজকে দিনে দিনে গ্রাস করে ফেলছে। এই পাবজি নামক গেমটির প্রতি এতটাই যুবসমাজের ঝোঁক যে তারা ঠিকমতো করে পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুমানো, পরিবারের কাজকর্ম করা প্রভৃতি কিছুতেই সময় দিতে পারছেনা। এই গেমটি যেন যুবসমাজকে 'আফিমের' মতো গ্রাস করে রেখেছে। অর্থাৎ এটি হল একটি অত্যন্ত নেশাগ্রস্ত গেম। যার আসক্ত থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন ব্যাপার।                   বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারতবর্ষের প্রায় সংখ্যক তরুণরাই আজ এই গেমের আসক্তির শিকার। যদিও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও এই গেমের প্রতি যুবসমাজের ঝোঁক দিনে দিনে হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই গেম খেলার ফলে আজকের প্রজন্মের যুবসমাজ প্রায় ধ্বংসের পথে। গবেষণায় জানা যায়, এই গেমের প্রতি সবথেকে বেশি আসক্ত হল যুবসমাজ। বিশেষ করে ১৮ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা এই গেমের নেশায় মত্ত হয়ে আছে।  
         
    এই নেশাগ্রস্ত ভিডিও গেমটি খেলার ফলে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ দিন দিন অন্ধকারের দিকে অগ্রগামী হচ্ছে। যুবসমাজ এই গেমের দরুন শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই আসক্তিযুক্ত খেলাটির ফলে যুবসমাজের পড়াশোনার ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই খেলার ফলে যুবসমাজ এতটাই মোবাইলের প্রতি মগ্ন থাকে যে, যার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়ে থাকে। এই খেলার ফলে যুবসমাজের ঠিক মতো করে ঘুম হয়না, সারাদিন এই ভিডিও গেমের প্রতি সময় দিয়ে থাকে যার ফলে তাদের ব্রেনেও চাপ পড়ে। ফলে মানসিক দিক থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়াও সারা দিন-রাত এই গেম খেলার দরুন ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। যেমন- মাথা ব্যাথা, হাতে-পায়ে ব্যাথা, মানসিক চিন্তা প্রভৃতি। জানা যায়, এই খেলার নিয়ম নাকি খেলার মধ্যে অন্য খেলোয়াড়কে হত্যা করা। যার ফলস্বরূপ যুবসমাজদের মধ্যে ক্রমে ক্রমে হিংসার মনোভাবও জন্মায়। তার ফলে যুবসমাজ নানান অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে।               

   এই খেলাটি এতটাই নৃশংসজনক যে যুবসমাজের প্রাণও নিয়ে নেয়। এই খেলার ফলে মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটতে দেখা যায় মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে। জানা যায় ট্রেন লাইনে বসে পাবজি খেলতে খেলতে দুই যুবক এতটাই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে যে ট্রেন আসার শব্দ তারা শুনতে পায়নি। যার ফলে ওই দুজনের ঘাড়ের উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। যার ফলে তাদের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু ঘটে। এইভাবে প্রতিদিন যুবসমাজের প্রাণ বিসর্জন হচ্ছে এই খেলার দরুন।              
      এছাড়াও যুবসমাজ এতটাই এই খেলার প্রতি নেশাগ্রস্ত যে, তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্কুল ছুটির সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ এই খেলার ফলে যুবসমাজের পড়াশোনার মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটে কর্ণাটকে। দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র -- পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না আসায় রাগান্বিত হয়ে পরীক্ষার খাতায় পাবজি খেলার পদ্ধতি লিখে দিয়ে এসেছে। সত্যি এই ঘটনাগুলি খুবই অকল্পনীয়। অর্থাৎ সর্বোপরি আমরা বলতে পারি এই খেলার ফলে যুবসমাজের সামাজিক বিকাশ ব্যহত হচ্ছে। এবং এই খেলার প্রতি যুবসমাজ এতটাই নেশাগ্রস্ত যে পরিবারের মধ্যে, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেও ঠিক মতো সম্পর্ক রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতি হিসেবে যুবসমাজের সামাজিকীকরণের উপর দিন দিন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।                     সর্বশেষে উপরিউক্ত বিষয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটাই বলব যে, পাবজি খেলার ফলে সমগ্র যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ দিন দিন অন্ধকারে আবৃত হচ্ছে। তাই সমস্ত অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ ছেলেমেয়েদের মোবাইল থেকে বিরত রাখুন। যদিও'বা মোবাইল দেন তাহলে সর্বদা নজর রাখুন ছেলে-মেয়ে কি করছে, কতটা মোবাইলের প্রতি সময় দিচ্ছে, ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা প্রভৃতি।                   

                 ⫷⫸

Wednesday, 22 July 2020

কবিতা --"বদলেছে সময়"

"বদলেছে সময়" 
            --বিজয় সরকার 

আমি দেখেছি রক্তে ভেজা মাটির বুকে
 তিলে তিলে গড়ে ওটা এক দেশ,  
আজ দেখছি কোনো এক যুদ্ধে সে দেশের সীমানা ভাঙনে
 শত সহস্র জনগনের অশ্রুজল ঝরে পরছে। 

আমি দেখেছি ধর্মে ধর্মে মিলিত হয়ে
মানুষ মিলনের সেতু বেঁধেছে, 
আজ দেখছি জাতি-ধর্মের লড়াইয়ে
পৃথিবীতে কত দেশ ভাগ হয়ে যাচ্ছে। 

আমি দেখেছি নদীর বুকে__
কত শত মানুষ ভালোবাসা বেঁধেছে, 
আজ দেখছি সহসা কোনো এক ঢেউ এ
সে সব ভালোবাসা হারিয়ে গেছে। 

আমি দেখেছি জীবনে চলার পথে
মানুষ হাজারো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়েছে, 
আজ দেখছি সময়ের স্রোতে
সে সব সম্পর্ক মিলিয়ে গেছে। 

আমি দেখেছি স্বপ্ন চোখে শত শত নারী 
জয়ের নিশান উড়িয়ে চলেছে। 
আজ দেখছি হিংস্র পাষন্ডের দল 
ফুল হয়ে ফোঁটার আগেই কত নারীর পাপড়ি ছিঁড়ে দিয়েছে। 

আমি দেখেছি রাজনীতির ভেলায় চড়ে মন্ত্রির ছেলে 
যোগ্যতা নেই তবু প্রফেসর হয়েছে,  
আজ দেখছি গ্রামের দরিদ্র মেধাবী ছেলেটা 
পিএইচডি হয়েও বেকারের জ্বালা ঘোচাতে ডোমের কাজ করছে। 

আমি দেখেছি অনেকেই __
বিন্দু বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পৌঁছেছে, 
আজ দেখছি তাদের অনেকেই দম্ভ অহংকারের তরে
 সিন্ধু  হতে বিন্দুতে নেমে গেছে। 

আমি দেখেছি শান্ত স্নিগ্ধ পৃথিবীর বুকে 
মানুষের শান্তিতে বসবাস, 
আজ দেখছি আমার পৃথিবীর বুকে 
দাঙ্গা হিংসা আর গোলা বারুদের উন্মত্ততার ছাপ।

আমি দেখেছি দিনের পর দিন
মানুষের অত্যাচারে সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে গেছে, 
আজ দেখছি আমার পৃথিবী 
কঠিন অসুখে পরে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

-------------------------------------------------

শ্রী বিজয় সরকার 
কবি ও লেখক 
রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ 
--------------------------------------------------
Voice Literary Blog