Wednesday, 27 October 2021

চিন্ময়ী মা - প্রদীপ বাগ



সারাদিন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে,একঘেয়ে ঘরে থাকতে ভালো লাগছে না,বন্ধু নীলেশের মুখেই শোনা গল্প আজ আপনাদের শোনাবো- বর্ষাস্নাত এই রকমই দুর্গাপুজোর সময় একটা ঘটনা যা আজও নীলেশের কাছে কোনো  ব্যাখ্যা নেই।নদীয়ার বিখ্যাত মৃৎশিল্পী জীবন কৃষ্ণ পালের নাম শোনেননি এমন লোক খুব কমই আছে।নীলেশের পাশের গ্রামে কুড়ি-পঁচিশ ঘর বসতি নিয়ে কুমোড়পাড়া,সেখানকার মানুষেরা চাষাবাদ ছাড়াও বাড়তি রোজগারের জন্য অনেকেই বিভিন্ন মূর্তি,খেলনা ইত্যাদী তৈরী করতো।যাদের মধ্যে অন্যতম জীবন কৃষ্ণ পাল তার হাতে গড়া দুর্গা ঠাকুর সূদূর অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বিভিন্ন দেশে সমাদৃত হয়েছে। সরকার থেকে বিশেষ পুরস্কৃতও হয়েছেন।অথচ মানুষটি কে দেখলে বোঝার উপায় নেই, কালো মোটা ফ্রেমের চশমা,হাঁটুর উপর ধূতি একটা ফতুয়া,কখনো বা খালি গায়ে কাঁধে গামছা।বেশিরভাগ সময় খালি পায়ে হেঁটে চলে বেড়াতে ভালোবাসে।
জীবন বাবু মূর্তি গড়াই বেশি পছন্দ করে,এক একটা মূর্তি তৈরী করতে কয়েক মাস লেগে যেত, এই সময় নাওয়া খাওয়া ভুলে বিভোর হয়ে কাদামাটি দিয়ে আঙুলের টানে মূর্তি গুলো সব জীবন্ত হয়ে উঠতো.........

একমাত্র মা মরা মেয়ে দুর্গা ছাড়া তার ত্রিভূবনে কেউ নেই, দুর্গার জন্মের সময়ই তার স্ত্রী কমলবালা ইহলোক ছেড়ে চলে যায়। সেই থেকেই জীবন বাবুই দুর্গার মা আবার বাবা।পরম স্নেহ যত্নে মেয়েকে লালন পালন করছেন এমনকি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দ্বিতীয় বার বিয়ে পর্যন্ত করেনি পাছে মেয়ের অযত্ন হয়।আড়ালে আবডালে লোকেরা কানাঘুষো করে,এই মেয়েটা অলক্ষী জন্মাবার সাথে সাথেই মা টাকে খেয়েছে। জীবন বাবু এসব শুনেও চুপচাপ থাকতো কারণ চলা পথ,বলা মুখ কখনো আটকানো যায় না।ক্রমশঃ দুর্গা বিবাহযোগ্যা হয়ে ওঠে সমত্থ মেয়েকে বেশি দিন তো নিজের কাছে রাখা যায় না তাছাড়া চোখ বুজলে মেয়েটার ভবিষ্যত কি হবে।সম্বল বলতে কাঠা চারেক জমি, কয়েকটা মেডেল আর শংসাপত্র।সাতপাঁচ ভেবে শান্তিপুরে একটি সম্বন্ধ ঠিক হলো।অগাধ জায়গা জমি,ব্যবসা বর্ধিষ্ণু বনেদী পরিবার। শান্তিপুরের বিখ্যাত রাশ মেলায় সুভাষ ঘোষের রাশের ডালা নামকরা,তাঁর জেষ্ঠ্য পুত্র অমর ঘোষের সাথে বিয়ে স্থির হয়েছে। 
দুর্গা নামেও যেমন রূপে গুণেও তেমন সাক্ষাৎ মা দুর্গা- টানাটানা চোখ টিকালো নাক মাথা ভর্তি চুল লেখাপড়াও মোটামুটি জানে।নম্র ধীর স্থির এবং খুব সহজেই সকলকে আপন করে নিতে পারে এটাই হলো ওর মহৎ গুন।এসব দেখেই ছেলের বাড়ির লোক এককথায় বিয়ের দিন পাকা করে গেছে।তারা নিজেরাই মেয়েকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

দুর্গা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি নয়,কান্নাকাটি করতে লাগলো।বাবা এই বয়সে তোমাকে কে দেখবে?আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না।
-- দুর পাগলি তুই তো আমার মা।তোর শক্তি,প্রেরণায় আমি ঠিক থাকবো,তুই চিন্তা করিসনা।বেশিরভাগ সময় জীবন বাবু দুর্গার কাছাকাছি থাকে,ছলছল চোখে দূর থেকে মেয়েকে সর্বদা নিরীক্ষণ করে।ছোট থেকে মানুষ করার সব ছবি মানসপটে ভেসে উঠে আসে।

যথারীতি ২রা আশ্বিন গোধূলি লগ্নে চারহাত এককরে কন্যা সম্প্রদানে শুভ বিবাহ প্রতিপন্ন হলো।পরের দিন মেয়ে জামাই কে বুকে জড়িয়ে ধরে চোখের জলে বিদায় দিলেন। সমস্ত অনুষ্ঠান পর্ব জীবন বাবু দক্ষতার সাথে নিখুঁত ভাবে শেষ করলো।

এবারে পাঁচটা দুর্গা ঠাকুরের বায়না নিয়েছে।মোটামুটি সব শেষ হয়ে এসেছে শুধু একটা ঠাকুরের চোখ মুখ আঁকা বাকি।হাতে বেশি সময় নেই,মেয়ের শোক কে বুকে চেপে রেখে টিনের দরজা সরিয়ে ঠাকুরগুলো ফিনিশ করতে লাগলো,চোখ মুখ আঁকা প্রায় শেষ হঠাৎ বলকে বলকে নাক মুখ দিয়ে কাঁচা রক্ত উঠতে লাগলো,আপন মনেই বলে মা রে আর একটু সময় দে তোর মুখটা একটু পালিশ বাকি আছে।দ্রুত হাত চালাতে থাকে, বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারে না হাত থেকে তুলি ক্যানভাস পড়ে যায়........

বৌভাতের অনুষ্ঠান-মাথায় মুকুট,টানা নথ চন্দনের কল্কায় একেবারে প্রতিমার সাজে সিংহাসনে দুর্গা বসে আছে।অভ্যাগতদের সাথে আলাপচারিতার মাঝে মাঝে আকুল হয়ে চোখ দিয়ে কাউকে খুঁজছে।জামাই কে সাথে নিয়ে বাবা কাছে আসতেই দুর্গা বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। জীবন বাবু মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে দিতে বল্লো-কাঁদিস না মা কাঁদিস না, দেখবি এবারে আমি তোর ছেলে হয়ে তোর কাছেই থাকবো। এমন সময় দমকা হাওয়ায় লাইট নিভে গেল বাইরে বজ্র বিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে।পরের দিন সকালে খবর এলো জীবন বাবু মারা গেছে।

শোকে মূহ্যমান দুর্গাকে নিয়ে জামাই নদীয়ায় এসে পৌঁছালো। টিনের দরজা সরিয়ে সবাই দেখে মেঝেতে চাপ চাপ রক্তের মাঝে জীবন বাবুর নিথর দেহ পড়ে আছে তার ঠিক সামনের মূর্তি টা হুবহু মেয়ে দুর্গার মতো দাঁড়িয়ে মেঝের দিকে বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে। পাড়ার লোকেরা বলে তুই যাবার পর এই ঘর থেকে আর জীবন বাবু বের হয়নি........??
            

Tuesday, 26 October 2021

মেস বাড়ির রকমারি রঙ্গ - শক্তি পদ সেন


  ভদ্রলোকের নাম বিপুল দাম। না, তিনি কোন নামী ব্যক্তিত্ব নন। মানে তিনি কোন কিছুর উদ্বোধন করেননি বা কোন গদ্য বা পদ্য লেখেননি। তা যা হোক, ওই ভদ্রলোকের সাথে আমার একবার আলাপ হয়। ওটাকে খেজুরে আলাপ ই ধরে নিতে পারেন। আচ্ছা দেখুন, আজকালকার দিনে শাক - সবজি, জামাকাপড়, খাদ্য - দ্রব্য, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিকস সব কিছুরই দাম বাড়ছে আর একদিকে মানুষের দাম কমছে। তো দেখুন,নামটাই হলো তাঁর বিপুল দাম। সত্যিই তাঁর দাম কিন্তু বিপুল ই, অন্ততঃ তাঁর বন্ধু - বান্ধব,শুভানুধ্যায়ী, অনুসারী সকলের কাছেই। ভদ্রলোকের কথায় এমন যাদু যে কথায় কথায় আপনাকে কিছুক্ষনের মধ্যে বিমোহিত করে ছাড়বেন। তিনি আমার কাছে একদিন গল্প করেছিলেন।তিনি নাকি বরাবরই হোস্টেলে বা মেসে থাকতেন। সত্যি, এমন জমাটিয়া মানুষ দুনিয়াতে খুব কমই দেখা যায়।তিনি বেশ রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন সাথে কিছুটা রস ঢেলে। সেদিন সকলেই আমরা তক্ত পোশের উপর বসে আছি। হঠাৎ ই তাঁর বিপুল - বিশাল শরীরটা দেখিয়ে তিনি গলা ছেড়ে গান ধরলেন ---" আমার এই বিপুল বিশাল দেহখানি তুলে ধরো,,,,,। আর মেসের সকলে তাঁর গানের সাথে সাথে তাল ধরে নাচতে শুরু করল। দু - চার জন তো থালা বাজাতে শুরু করল। ওই গানের পর ই আরেকজন আরেকটা গানের তালে তালে নাচতে শুরু করল ---- " জানা, ও মেরি জানা,,, অ্যয় ম্যায় তেরে রাজা,,,লায়লা,, ও মেরি লায়লা,,,। আ। - যা,,মেরে বাহু মে আ,, যা,,,,।সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল সকলের উদোম নাচ। মেস বাড়ির আশেপাশের উঠতি বয়সের ছেলে - মেয়েরা জানলা থেকে উঁকি মেরে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে লাগল।
  পরে অবশ্য শুনেছি -- কেউ কেউ নাকি এতে বিরক্ত হয়ে মেস বাড়ির কাজকর্মের ব্যাপারে তিরস্কার ও করেছে। তবে কে কার কথা শুনে ? দিনের পর দিন মেসের এই হযবরল দিনের পর দিন চলতেই থাকত।
  কি অদ্ভুত জমিয়ে রাখার ক্ষমতা! দেখুন ,আমি বলেছি কিন্তু খেজুরে আলাপ। তার মানে এই নয় যে তিনি খাজুরা হের সব জিনিস পছন্দ করেন বা তার সাথে তাল মিলান। আসলে তাঁর রসের নৌকার খেয়া দিনে অন্ততঃ বিশ - পঁচিশ বার খেপ মারে।
   আর একবার তিনি শোনালেন --- মেসে দিন দুয়েক ঠাকুর নেই।আবার কাজের মাসিও বেপাত্তা। তো তখন সেই কাহিনী তিনি যা বললেন -- বেশ মজার ব্যাপার। তখনকার দিনে কয়লার উনুনে রান্না হত।সেই কয়লার ছাই পাশেই পড়ে থাকত।সকালে উঠে সবাই কার ডিউটি হল কয়লার ছাই দিয়ে থালা মাজা। তো তিনি নিজেকে এ ব্যাপারে অনভিজ্ঞ বলেই বর্ণনা করলেন। পাশাপাশি বসে লাইন দিয়ে সবাই থালা মাঁজছে।লাইন দিয়ে বলতে তখনকার দিনে মেয়ে বউরা যেমন লাইন দিয়ে পাথরের যাতায় মাসকলাই ভাঙত -- অনেকটা সেইরকম। তো বসে থালা মাজতে মাজতে অনেকের গুন গুন করে গান ও চলছে। কয়েকজন আবার উত্তেজনা চাপতে না পেরে উঠে দাঁড়িয়ে কয়লার ছাই সহ থালা হাতে নাচতে শুরু করে দিল ---
"জানা, ও মেরি জানা,,,
এয়, ,, ম্যায় তেরে রাজা,,,
লায়লা, ও মেরি লায়লা,
আ,,,যা,,মেরে বাহু মে আ,,,যা,,,
  তো সময়টা গ্রীষ্ম কাল। কুয়োতেও বেশ একটা জল নেই। কোন রকমে বালতি নামিয়ে কুড়িয়ে বাড়িয়ে আধ বালতি করে জল বার কয়েক উঠল।নাচা গানার পালা শেষ হলে কোন রকমে সবাই থালাগুলো তখন পরিস্কার করে নিজের নিজের জায়গায় রাখল।
  তারপর আরেক জনের গান সমেত নাচ শুরু হল। মেস বাড়িতে শুরু হল --" জিলে লে,,, জিলে লে,,,আও ,,, আও আও জিলে লে,,,,। মানে ওই আলুভাতে গিলে লে,,,,গিলে লে,,,,। সত্যিই সেদিন আলুভাতেই হল। ঠাকুর তো নেই। কারুর রান্নার অভিজ্ঞতা নেই। কোন রকমে মশাই সেই বড়ো হাঁড়িতে কয়লার উনুনে বানানো আলু ভাতই খাওয়া হল। তার অধিক আর কিছুই জুটল না। এদিকে অনেক দেরি করে চান টান করে খাওয়া হল।ঘন্টা তিনেক বিশ্রাম। তারপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল।
  এবার এল চায়ের পালা।একজন গিয়ে ততোধিক উৎসাহী হয়ে চা বানাল।এখন বলে উঠল  -- শালা, চা করতে জানিস ? যা চা হয়েছে দেখছি, মনে হচ্ছে তাতে দিতে আর কোন কিছুই বাকি নেই। শালা, চায়ের এমন স্বাদ যেন পাঁচ ফোড়ন ,জিরে, ধনে সব দিয়ে দিয়েছে --- এক বিতিকিচ্ছিরি যাচ্ছেতাই স্বাদ ! তাহলে এত কষ্ট করে চা করার কি দরকার ছিল ? যা হোক,তখন চায়ের সাথে বিস্কুট কি জুটল জানেন ? এখনকার মতো সহজপ্রাপ্য নামী ব্রিটানিয়া বিস্কুট নয়,তৎকালীন বিখ্যাত ' ভগবতী ' বিস্কুট। সত্যিই ,মেসের এই ভগবতী দের জন্য ওই ভগবতী বিস্কুট ই সেরা।একজন ত বলেই উঠল --" আজকে আমরা সবাই ভগবতী। কার্তিক মাস। নেহাত পাশের গাঁয়ের লোকেরা খোঁজ রাখে না। না হলে আমাদের সকলের শিংয়ে ( থুড়ি মাথায়) ধান শিসের টোপর আর কপালে সিঁদুর লেপে দিয়ে দেখাত যে ভগবতী দিগকে দুনিয়ার মানুষ বেশ সুখেই রেখেছে।
  সত্যিই ,ওই জমাটিয়া ভদ্রলোককে আর যাই বলেন, তাতে তাকে অন্ততঃ খেজুরে আলাপের মানুষ কোনো ভাবেই বলা যায় না।

Sunday, 24 October 2021

কোথায় চেতন - মঞ্জুলা বর

 



সুন্দর  পৃথিবীতে মানুষ কবে আর 
মানুষ হবে ? এতো শিক্ষা ব‍্যবস্থা  
এতো আইন  কানুন তবুও  শত সহস্র
 নারীর গণধর্ষণ গর্ভকালীন !

 কেমন শিক্ষা?---ভাবতে অবাক লাগে
 এতো পুলিশের সমারোহ পথে পথে--
 হাজার হাজার  জন মানব তবে কী
 করে মোড়ে মোড়ে নারীর  কেন 
 এত ধর্ষণ  ও মৃত্যু  !

আসলে সব থেকে ও কিছু নেই অভাগা 
দেশে! জ্ঞানের আলোকে  মানুষ কবে  
আর মানুষ হবে?সবাই আমরা মুখে 
কত জ্ঞানের বাণী শোনাই কিন্তু সত‍্যি কী 
কেউ  সঠিক  পথে চলি! সবটা যেন  
অজানা! ------

বিবেক চেতন যদি জাগতো তবে দিনের 
পর এতো অন‍্যায় অরাজকতা হতো না!
মিথ‍্যার কবলে সত‍্য হতো না জর্জরিত ।

লোভের মোহে দিকে দিকে ধান্দা 
আর মারামারি  । স্বার্থের তরে হিংসা,ঈর্ষা ,
ক্ষুণ,খারাপি  চলছে অহরহ।  

 কোথায়   মনুষ্যত্ব ?কোথায় চেতন?
কোথায়  বা  মানবিকতা? নীরবে আজও 
কাঁদে  অসহায়  ধরণী ।।

এসো - গাই জীবনের গান - নূপুর আঢ‍্য


 
লুন্ঠিত,রক্তাক্ত আজ মানবিকতা হচ্ছে অবক্ষয়,
পৈশাচিক উল্লাসে ধর্মান্ধরা করছে নৃত্য।
দেশের দশের ওরা বিভীষিকা,নরকের কীট,
ধর্মের আড়ালে আপন ধর্ম করছে কালিমালিপ্ত।

সকল ধর্মের মন্ত্র -- প্রেম ভালোবাসা,
মানুষের কাছে আসা,পাশে থাকা,
বন্ধুত্ব,সহমর্মিতা,মানবিকতা,শুদ্ধতা,
ন‍্যায়ের সাথে অপর ধর্মকে সম্মান জানানো।

এসো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষ,
কতিপয় পামরদের করে প্রতিহত,
ওদের ঘৃন্য আচরণ করে নির্মূল,
সত‍্য শিব সুন্দরের হই পূজারী।

মানুষের জন্য ধর্ম,মানুষের হিতার্থে 
মানুষ হয়েছে ধর্মের অনুশাসনে আবদ্ধ।
এসো হিন্দু,এসো মুসলমান,এসো শিখ খৃস্টান,
সৌহার্দে হই মিলিত,গাই জীবনের জয়গান।

মুসলমান - দিগন্ত কুমার দাস।


  

মুসলমানের সজ্ঞা জানো-
 কাকে বলে মুসলমান?
মুসলমান তাদেরই বলে- 
বিশ্বে যারা শান্তি চান।
নয় সে মুসলিম, নয় সে হিন্দু,
 নয় সে বৌদ্ধ বা খ্রস্টান,
সকল ধর্মের, সকল জাতির
প্রতি যাদের টান সমান।
তবে কেন মাটির দেহের
প্রাণকে নিয়ে এতো রাগ!
মাটির দেহ খুন করলে কি,
লাগেনা কলংকের দাগ?
যে মাটি- মা শেষ ঠিকানা,
তাকেই যদি ভেঙ্গে দাও,
কেমন করে মানতে পারি,
তোমরা কারো শান্তি চাও?
তোমরা যাদের করছ আঘাত,
তারা কি সব মানুষ নয়?
মানুষ মেরে হয় কখনো, 
ধর্ম কিম্বা জাতির জয়?
মানুষ হয়ে মানুষ মারো,
ভাবোনা কে আপনজন,
সব মানুষ আজ মরে গেলে,
কাকে নিয়ে কাটবে ক্ষণ?