Wednesday, 17 March 2021

আহুতির উদ্ভব --কবি সুব্রত মিত্র



পৃথিবীর শেষ ধুলোর পাশে যাবো মিশে অবশেষে
হয়তো বা মিশবো না কোনদিন
আগাছার তলে বিন্দু বিন্দু জলে ব্যর্থ হবে সাগরের ছবি আঁকা,
হোগলের শিরদাঁড়ায় হাওয়া এসে দিয়েছে নাড়া
দূরে উদীয়মান বৃক্ষেরা কেন হলো দল হারা;
রমনীরা তৃণ হয়ে সুধালো আমারে এসে
একলা তপস্যার এই চুপিসার সাথি হলো নিমেষে।

রদবদল হয়ে যায় সময়ের পারাপার
হাল ভাঙ্গা বিকেলে ওপার হতে কেউ ডাকবে না আর,
স্মৃতি বলে কিছুই পারিনি গড়িতে এহেন জীবনে
ছায়ার সেতুর পাশে শক্ত কবচ খানি,
পারিনি রাখিতে থামায়ে আমার এই মৃত্যুর বাণী।

এই নিঃস্বতার মাঝেও যারা প্রজাপতির বাসর সাজায়
আমি আমরণ কাল ধরে তাহাদের সাথে রবো
মনের সরণি বেয়ে আমি ঘুমন্ত শৈলীতে রবো জনম জনম
সেই মরমীয় শাখায় শাখায় প্রতিলিপির মর্মের পাতায় পাতায়।

রাখিবো আজি খুঁটি গেড়ে তোমার তরে
নিশ্চুপ হাওয়ার সাথে দেওয়া-নেওয়া গেছে মিশে;
পরাজিত মৌনতা জিতে যায় অবশেষে,
আমি গাঢ় গাঢ় উজ্জ্বল পশ্চাৎ করিয়াছি স্মরণ
প্রেমকে পারিনি দিতে সম্পূর্ণ মুক্তহস্ত
প্রেম তো নয় খেলনা; প্রেম কথাটি বড়ই শক্ত। 

Wednesday, 3 March 2021

প্রেমভঙ্গ --পংকজ সরকার



জীবনে প্রেম এসেছিল-
   যেমন আসে সবার জীবনে।
কোথায় যে'তা হারিয়ে গেল
   আমার একটুও নেই মনে।

তখন পৃথিবীকে রঙিন মনে হত/
      বাস্তবে যা কালো;
চারপাশে যা দেখত দু'চোখ
        লাগত সেসবই ভালো।

বরাবর ভালো লাগেনি আমার
        চলতি লেখাপড়া;
তবুও প্রেরণা যুগাতো তখন
           আমার অন্তরা।

অন্তরা আমার জীবনে অধরা 
   অন্য একজনের সাথে   জমিয়েছিল ও ভাব;
তাইতো তাকে ভালোবেসেও 
    দেয়া হয়নি আমার প্রস্তাব।

আমার না-বলা- কথা যেসব
     না বলা-ই গেল রয়ে;
শান্তিতে আছি তবু...
      বিরহ ব্যথা বুকে বয়ে।।

Sunday, 21 February 2021

গোবিন্দ সরকার

কবি পরিচিতি 

গোবিন্দ সরকারঃ -জন্ম ১৯৯৫ সালের ৭ই নভেম্বর নিতান্তই এক কৃষক পরিবারে।জন্মস্থান ও বসবাস দঃ দিনাজপুরের কুশমন্ডির এক প্রত্যন্তর গ্রাম সরলায়।পিতা শ্রী নির্মল সরকার একজন ক্ষুদ্র কৃষক এবং মাতা শ্রীমতি বেজোবালা সরকার একজন গৃহকর্ত্রী।স্কুল জীবন সরলা বি.এন.এস. উচ্চবিদ্যালয় ও আমিনপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অত্যন্ত মেধা ও সাফল্যের সঙ্গে কেটেছে।তারপর গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বুনিয়াদপুর মহাবিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতক।পরবর্তীতে নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর।

বর্তমান পেশায় শিক্ষক।২০১৭ সালে মিঠাপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে প্রথম যোগদান।

ছোট থেকেই কবিতার প্রতি নিবিড় ঝোক সাহিত্য অনুরাগী করে তোলে।মূলত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের টানেই ছোট পত্রিকার মধ্য দিয়ে সাহিত্যে হাতে খড়ি।প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে "নবপ্রয়াস পত্রিকা"য়।তারপর যথাক্রমে 'শব্দসাঁকো', 'স্পর্শ', 'সাতকাহন', 'প্রাঙ্গন', '৯ নং সাহিত্যপাড়া লেন', 'অক্ষর সংলাপ', 'ইলশেগুঁড়ি', 'বর্তিকা', 'সোনাঝুরি' প্রভৃতি পত্রপত্রিকা এমনকি বাংলাদেশের দৈনিক কাগজ "শিল্প সাহিত্য"-এও নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়।প্রকাশিত সংকলনের মধ্যে "দিগন্তে ক্যানভাস", "নবারূষ"(নবপ্রয়াস পত্রিকা গোষ্ঠী),এবং "৬-এ ছক্কা"(অন্বেষা প্রকাশনি)।প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ "ডায়েরির পরীরা" ২০১৯ সালে অন্বেষা প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত হয়।

সৌম্য ঘোষ



    কবি ও প্রাবন্ধিক পরিচিতি 
 

কবি ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক সৌম্য ঘোষ সাম্প্রতিক বাংলা পত্র-পত্রিকার জগতে বিশিষ্ট নাম। লিখেছেন অসংখ্য প্রবন্ধ, কবিতা। লিখছেন। গবেষণা ঋদ্ধ, মননশীল, তত্ত্ব ও তথ্যনির্ভর প্রবন্ধ। ব্যক্তিগত জীবনে আত্মমুখী, প্রচার বিমুখ, নির্জনতা- প্রিয়, সৎ, ভাবুক এই কবি। যার প্রহর কাটে শব্দব্রহ্মের জগতে । নিবিড় অনুধ্যানে, অধ্যায়নে। 
কবি প্রাবন্ধিক সৌম্য ঘোষের পিতা ৺বলরাম ঘোষ এবং মাতা ৺প্রতিমা ঘোষ। ঠাকুরমা ৺প্রভাবতী দেবী সাংসারিক কাজের মধ্যে থেকেও স্বাভাবিক প্রতিভায় ছড়া তৈরি করতে পারতেন । মাতামহ ৺অমূল্যকৃষ্ণ চন্দ ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সরকারি ডাক্তার। Captain rank. স্বাধীনতা আন্দোলন কালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আহবানে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে রেঙ্গুন চলে যান এবং নেতাজির সহযোগী হয়ে নেতাজি প্রতিষ্ঠিত I.N.A. এর চিকিৎসক-সৈনিক হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বসিরহাট শহরে বসবাস করেন।
 অধ্যাপক সৌম্য ঘোষ পেশায় শিক্ষক। উত্তর 24 পরগনার নৈহাটি শহরের ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজের অধ্যাপক। আদি বাড়ি উত্তর 24 পরগনার বসিরহাট মহাকুমায় শ্রীশ্রী স্বামী ব্রহ্মানন্দজী রাজামহারাজের জন্মধন্য পুণ্যতোয়া ভূমি শিকরা কুলীন গ্রাম । 
বর্তমানে অধ্যাপক ঘোষ হুগলি জেলার সদর ঐতিহাসিক শহর চুঁচুড়ায় স্ত্রী ( জ্যোৎস্না ঘোষ ) এবং একমাত্র পুত্র (সায়ক ঘোষ ) সহ নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন। স্থানীয় অঞ্চলের সর্বজন শ্রদ্ধেয়, জনপ্রিয় এবং নির্বিবাদী লেখক ঈশ্বর বিশ্বাসী। বেলুড় মঠের দীক্ষায় দীক্ষিত। তিনি বিশ্বাস করেন, " সাহিত্য সেবার মধ্যে ঈশ্বর সাধনা।" জীবজন্তুর প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম। শুধু দেশে নয়, অস্ট্রেলিয়া লন্ডন ঢাকাসহ বিদেশেও তাঁর লেখা মর্যাদার সাথে প্রকাশিত হয়। তিনি একাধিক পত্রিকার সম্পাদনের সঙ্গে যুক্ত।।



জয়ন্ত আচার্য

কবি-লেখক পরিচিতি

জন্ম ১৯৭৬ সালের ১৬ ই জুন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়াবাজারে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং বর্তমানে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত । সৃজনশীল ও বিশ্লেষণাত্মক দু'ধরনের লেখাতেই পারদর্শী । ফিচার, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র ও অন্যান্য পত্র পত্রিকায় । ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা বিষয়ে দৈনিক সংবাদপত্রে লিখে থাকেন ।ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত আছেন । যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও।
শিক্ষক হিসেবে ২০১৩ সালে পেয়েছেন "পারুল শিক্ষা সম্মান"। ২০১৬ সালে যুব উৎসবে প্রবন্ধ রচনায় রাজ্যে প্রথম হয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন । সাহিত্যকর্মের জন্য পেয়েছেন "কালকণ্ঠ সাহিত্য সম্মান" এবং "মোহিনী " "মেঠোপথ" "সচেতনা" প্রভৃতি পত্রিকার পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা ।