Tuesday, 28 July 2020

প্রবন্ধ : আমার প্রিয় মহাশ্বেতা --গুরুদাস বিশ্বাস

প্রাবন্ধিক পরিচিতি: কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক গুরুদাস বিশ্বাসের জন্ম ১৯৮২ সালে। উত্তরবঙ্গ ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডবল এম.এ ২০০৬, ২০১৭।  গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ এ বি.এড করেছেন। বি.লিস ২০১১ নেতাজী ওপেন। ২০১৩ সাল থেকে নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সহকারী শিক্ষকরূপে কর্মরত আছেন। বর্তমানে মহাশ্বেতা দেবীর ছোটো গল্প নিয়ে গবেষণায় রত।


অবাণিজ্যিক পত্রিকা 'ভয়েস',' পয়ার',' সাহিত্য দিশারী, 'কুসুম',' অঙ্কুর',' প্রাঙ্গন',' মুক্তি',' কবিতা কুঠির','' প্রভাতী',' পারিজাত', আল্পনা'র কবিতা,'বিশ্ববঙ্গ',' সৃষ্টি সুধা',' সত্যম শিবম সুন্দরম',' দুই কবি',' কবিতা বাসর' এবং বাণিজ্যিক পত্রিকা 'উত্তরবঙ্গ সংবাদ' প্রভৃতিতে লিখেছেন ।  বর্তমানে 'ভয়েস' সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন" এর উপদেষ্টা পদের দায়িত্বে রয়েছেন। সৃষ্টি এবং গবেষণার জগৎ কবির প্রাণ প্রিয়।-----------------------------

           ----------------------------


🏵🏵 আমার প্রিয় মহাশ্বেতা 🏵🏵🏵

বাংলা সাহিত্য জগতের ইতিহাস ভূমিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই আমরা দেখি গতানুগতিক ধারার সাহিত্য রচনায় পরিপূর্ণ লেখনী জগৎ। সেই গতানুগতিক ধারাকে অতিক্রম করে সত্তর, আশির দশকে মহাশ্বেতা দেবী গড়ে তুলেছেন সমাজের ব্রাত্য,পরিত্যক্ত ,পতিত,নিম্ন বর্গীয় জন জীবনের পৃথিবী। ছোট গল্প তটে লেখিকার এই সৃষ্টি যেন এক নতুন দিগন্তের জন্ম দিয়েছে। কল্লোল যুগে শৈলজা নন্দ, প্রেমেন্দ্র মিত্র যখন সবে সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণীকে সাহিত্যে রূপ দানের চেষ্টা করছেন,স্মরণ করিয়েদেয় সেই চেষ্টার পরিপূর্ণতা পায় মহাশ্বেতা দেবীর হাত ধরে। তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ লোধা,শবর সমিতির সদস্যা। তাঁর রচনায় সম্যক রূপে ফুটে ওঠে কোল, ভিল, মুন্ডা, ওঁরাও, আদিবাসী জীবন চিত্র। নিম্নবর্গ সবসময় উপেক্ষিত। সরস্বতীর পাদ প্রদীপের তলায় যে,নিম্নবর্গীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আসতে পারে একথা আমরা কল্পনাই করতে পারতাম না। সব সময় আমরা দেখি কোন গল্পের নায়ক হবে গ্রিক ট্র্যাজেডির মতো, শেক্সপিয়রের গল্পের নায়কের মতো সুমহান চরিত্র, বীরত্ব ব্যঞ্জক। তার একটা বংশ মর্যাদা থাকবে,বিশাল জ্ঞান থাকবে।কিন্তু একজন মাঝি, একজন বেদেনী, একজন সাঁওতালও যে হতে পারে সেটা তারাশঙ্কর এবং কল্লোল যুগ থেকে দেখতে পাচ্ছি। সেই ধারাকে বর্তমান সময়ে পাঠকের কাছে অতি সহজ সরল সাবলীল ভাষায় ঘটনার মধ্যে দিয়ে মহাশ্বেতা দেবী ছোটো গল্পের আকারে প্রেরণ করেছেন। তাঁর গল্পে আমরা 'নিম্নবর্গ' বা 'Subaltern' এর যে বাস্তব চিত্র পাই তা বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান।     

  আদিম মানুষ থেকে সামাজিক মানুষ হওয়ার সাথে সাথে;সমাজের কোলে জন্ম নিয়েছিল উচ্চবর্গ ও নিম্ন বর্গ। সৃষ্টি হয়েছিল সহজ ভাবেই দুই শ্রেণীর মধ্যে বিরোধ। একদিকে উচ্চবর্গের উচ্চাকাঙ্খা প্রতিষ্ঠার লড়াই, অন্যদিকে নিম্নবর্গের তা না মেনে নিয়ে বাঁচার লড়াই। যে বিরোধ সারাজীবনেও মেটার নয়।এ ভাবেই ব্রাত্য,শোষিত,পীড়িত মানুষের দলে নিম্নবর্গের স্থান লাভ। সমাজ গঠনে যে সকল মানুষ গুলো মূল কারিগর তাদের ইতিহাস আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই ইতিহাসকে বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই যেন সন্তান স্নেহে অবতীর্ণ হয়েছেন এদের পাশে কখনো ভগিনী কখনো অভিভাবক রূপে।তাদের অধিকার, প্রতিরোধ,প্রতিবাদ,প্রতিকার প্রভৃতি নিজের সমস্যা মনে করে কলম ধরেছেন আজীবন। তার গল্পে সেই চিত্র বার বার পরীক্ষিত হয়।           সামাজিক,অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক প্রতি ক্ষেত্রেই যে নিম্নবর্গ শোষিত হয়,সে বিষয় জানতে মহাশ্বেতা দেবীর কয়েকটি গল্পে আমরা প্রবেশ করি।    গ্রামের কৃষিজীবী এবং শহরের বস্তিবাসী আর্থিক দিক থেকে নিম্নবর্গের অন্তর্ভুক্ত। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় তাদেরকে যে চরম উপেক্ষার শিকার হতে হয় তার প্রমান মেলে'এইচ,এফ,৩৭:রিপোর্টাজ' গল্পে। গ্রামের পদ্মমনি শহরের বস্তিবাসী দিদি তারামনির বাড়িতে এসে মারা যায় ডাক্তার পুলিশ পদ্মমনির লাশ ময়না তদন্ত না করে ছাড়বে না বলে জানান। কিন্তু সে কাজে উদ্যোগী হওয়ার চেয়ে তারা (ডাক্তার, থানাবাবুপ্রভৃতি) তারামনির ছেলে বৈরাগীকে অহেতুক হয়রান করেন। থানাবাবু জেনে শুনে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাকে ঘোরান, বলে বিকেলের মধ্যে লাশ ময়না হয়ে পেয়ে যাবে বৈরাগী।অথচ থানাবাবু জানেন আজ আর ময়না তদন্ত হবে না এবং তিনি কোনো চেষ্টাও করেননি যাতে ময়না তদন্ত আজ হওয়া সম্ভব হয়। তাহলে এই ছেলেটিকে থানাবাবু এরকম প্রতারণা করতে পারেন কেন? কারণ-আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দিকথেকে বৈরাগী চরণ নাইয়া যে নিম্নবর্গের এবং সেই কারণেই তার উপর অন্যায় করা যাচ্ছে দ্বিধাহীন ভাবে তা লিখিকা এখানে স্পষ্ট করে দিলেন। এছাড়াও মহাশ্বেতা দেবীর অন্যান্য নিম্ন বর্গীয় মানুষের করুণ জীবন চিত্র লক্ষিত হয় যেমন 'হারুন সালেমের মাসি','দ্রৌপদী','বিছন','বাঁয়েন','পিণ্ডদান','বান','স্তন্যদায়িনী','সংরক্ষণ','নুন','রুদালী',সাঁঝ সকালের মা','নেশা','শনিচরী' প্রভৃতি গল্পে। তাই সম্যক রূপে নিম্ন বর্গের কথা জানতে আমাদের মহাশ্বেতা দেবীকে অধ্যায়ন প্রয়োজন।     -------------------------🏵🏵------------------

প্রবন্ধ : পাবজি ( PUBG) গেম ও যুবসমাজ - জয়দেব বেরা


প্রাবন্ধিক পরিচিতি:- জয়দেব বেরা একজন তরুণ কবি ও সাহিত্যিক , লেখক , শর্ট ফ্লিম অভিনেতা গল্পকার-চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক।পিতার নাম  রিন্টু বেরা ও মাতার নাম মানসী বেরা।তিনি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বৃন্দাবনপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। 


তিনি ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র। তিনি সমাজতত্ত্ব চর্চার পাশাপাশি কবি ও সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত।তাঁর লেখা বই গুলো হলো- "উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের সাফল্য","উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের প্রশ্ন বিচিত্রা","সমাজতাত্ত্বিদের ইতিবৃত্ত","কোভিড-১৯ ও সমাজতত্ত্ব","শিশুদের সমাজতত্ত্ব","কবিতার ভেলা","কবিতায় মার্ক্সবাদ","বাস্তবতা","জাগরণ"প্রভৃতি।এছাড়াও তাঁর লেখা একাধিক যৌথ কাব্যগ্রন্থ(ভারত ও বাংলাদেশ) রয়েছে।তাঁর পরিচালিত শর্ট ফ্লিম গুলি হলো-রক্তদান, প্রতারণা প্রভৃতি সহ ছিল আরও অন্যান্য ছবি।এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধরনের গান, গল্প,প্রবন্ধ প্রভৃতি রচনা করেছেন।তিনি CTN টিভিতে ও বিভিন্ন সাহিত্যের সভাগৃহে   সাহিত্য ও সমাজতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।সাহিত্যের লেখালেখির জন্য তিনি বেশ কিছু লেখনী সম্মানও (দুইরত্ন সম্মান,কল্পরত্ন সম্মান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্মান, কবিরত্ন সম্মান, মুকুর শারদীয়া সম্মান-২০১৯,মুকুর লেখনী সম্মান-২০২০, মুকুর সাহিত্য সংকল্প  সম্মান প্রভৃতি) অর্জন করেন।_____________________________________________ 


 ꧁পাবজি ( PUBG) গেম ও যুবসমাজ꧂        


   বর্তমান সময়ে যে গেমটির নামের সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত হয়ে আছি সেটি হল পাবজি (PUBG) গেম। এই গেমের সম্পূর্ণ নাম হল প্লেয়ার আননোনস ব‍্যাটল গ্রাউন্ড (Player Unknowns Battleground)। এই গেমটি আজ বিশ্বের অধিকাংশ যুবসমাজের কাছে অতিপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় সমস্ত যুবসমাজই আজ এই নেশাগ্রস্ত গেমের প্রতি আসক্তি হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ এই পাবজি নামক গেমটি সমস্ত যুবসমাজকে দিনে দিনে গ্রাস করে ফেলছে। এই পাবজি নামক গেমটির প্রতি এতটাই যুবসমাজের ঝোঁক যে তারা ঠিকমতো করে পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুমানো, পরিবারের কাজকর্ম করা প্রভৃতি কিছুতেই সময় দিতে পারছেনা। এই গেমটি যেন যুবসমাজকে 'আফিমের' মতো গ্রাস করে রেখেছে। অর্থাৎ এটি হল একটি অত্যন্ত নেশাগ্রস্ত গেম। যার আসক্ত থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন ব্যাপার।                   বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারতবর্ষের প্রায় সংখ্যক তরুণরাই আজ এই গেমের আসক্তির শিকার। যদিও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও এই গেমের প্রতি যুবসমাজের ঝোঁক দিনে দিনে হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই গেম খেলার ফলে আজকের প্রজন্মের যুবসমাজ প্রায় ধ্বংসের পথে। গবেষণায় জানা যায়, এই গেমের প্রতি সবথেকে বেশি আসক্ত হল যুবসমাজ। বিশেষ করে ১৮ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা এই গেমের নেশায় মত্ত হয়ে আছে।  
         
    এই নেশাগ্রস্ত ভিডিও গেমটি খেলার ফলে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ দিন দিন অন্ধকারের দিকে অগ্রগামী হচ্ছে। যুবসমাজ এই গেমের দরুন শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই আসক্তিযুক্ত খেলাটির ফলে যুবসমাজের পড়াশোনার ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই খেলার ফলে যুবসমাজ এতটাই মোবাইলের প্রতি মগ্ন থাকে যে, যার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়ে থাকে। এই খেলার ফলে যুবসমাজের ঠিক মতো করে ঘুম হয়না, সারাদিন এই ভিডিও গেমের প্রতি সময় দিয়ে থাকে যার ফলে তাদের ব্রেনেও চাপ পড়ে। ফলে মানসিক দিক থেকে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়াও সারা দিন-রাত এই গেম খেলার দরুন ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতির পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। যেমন- মাথা ব্যাথা, হাতে-পায়ে ব্যাথা, মানসিক চিন্তা প্রভৃতি। জানা যায়, এই খেলার নিয়ম নাকি খেলার মধ্যে অন্য খেলোয়াড়কে হত্যা করা। যার ফলস্বরূপ যুবসমাজদের মধ্যে ক্রমে ক্রমে হিংসার মনোভাবও জন্মায়। তার ফলে যুবসমাজ নানান অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে।               

   এই খেলাটি এতটাই নৃশংসজনক যে যুবসমাজের প্রাণও নিয়ে নেয়। এই খেলার ফলে মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটতে দেখা যায় মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে। জানা যায় ট্রেন লাইনে বসে পাবজি খেলতে খেলতে দুই যুবক এতটাই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে যে ট্রেন আসার শব্দ তারা শুনতে পায়নি। যার ফলে ওই দুজনের ঘাড়ের উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। যার ফলে তাদের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু ঘটে। এইভাবে প্রতিদিন যুবসমাজের প্রাণ বিসর্জন হচ্ছে এই খেলার দরুন।              
      এছাড়াও যুবসমাজ এতটাই এই খেলার প্রতি নেশাগ্রস্ত যে, তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্কুল ছুটির সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ এই খেলার ফলে যুবসমাজের পড়াশোনার মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটে কর্ণাটকে। দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র -- পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না আসায় রাগান্বিত হয়ে পরীক্ষার খাতায় পাবজি খেলার পদ্ধতি লিখে দিয়ে এসেছে। সত্যি এই ঘটনাগুলি খুবই অকল্পনীয়। অর্থাৎ সর্বোপরি আমরা বলতে পারি এই খেলার ফলে যুবসমাজের সামাজিক বিকাশ ব্যহত হচ্ছে। এবং এই খেলার প্রতি যুবসমাজ এতটাই নেশাগ্রস্ত যে পরিবারের মধ্যে, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেও ঠিক মতো সম্পর্ক রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতি হিসেবে যুবসমাজের সামাজিকীকরণের উপর দিন দিন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।                     সর্বশেষে উপরিউক্ত বিষয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটাই বলব যে, পাবজি খেলার ফলে সমগ্র যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ দিন দিন অন্ধকারে আবৃত হচ্ছে। তাই সমস্ত অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ ছেলেমেয়েদের মোবাইল থেকে বিরত রাখুন। যদিও'বা মোবাইল দেন তাহলে সর্বদা নজর রাখুন ছেলে-মেয়ে কি করছে, কতটা মোবাইলের প্রতি সময় দিচ্ছে, ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা প্রভৃতি।                   

                 ⫷⫸

Wednesday, 22 July 2020

কবিতা --"বদলেছে সময়"

"বদলেছে সময়" 
            --বিজয় সরকার 

আমি দেখেছি রক্তে ভেজা মাটির বুকে
 তিলে তিলে গড়ে ওটা এক দেশ,  
আজ দেখছি কোনো এক যুদ্ধে সে দেশের সীমানা ভাঙনে
 শত সহস্র জনগনের অশ্রুজল ঝরে পরছে। 

আমি দেখেছি ধর্মে ধর্মে মিলিত হয়ে
মানুষ মিলনের সেতু বেঁধেছে, 
আজ দেখছি জাতি-ধর্মের লড়াইয়ে
পৃথিবীতে কত দেশ ভাগ হয়ে যাচ্ছে। 

আমি দেখেছি নদীর বুকে__
কত শত মানুষ ভালোবাসা বেঁধেছে, 
আজ দেখছি সহসা কোনো এক ঢেউ এ
সে সব ভালোবাসা হারিয়ে গেছে। 

আমি দেখেছি জীবনে চলার পথে
মানুষ হাজারো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়েছে, 
আজ দেখছি সময়ের স্রোতে
সে সব সম্পর্ক মিলিয়ে গেছে। 

আমি দেখেছি স্বপ্ন চোখে শত শত নারী 
জয়ের নিশান উড়িয়ে চলেছে। 
আজ দেখছি হিংস্র পাষন্ডের দল 
ফুল হয়ে ফোঁটার আগেই কত নারীর পাপড়ি ছিঁড়ে দিয়েছে। 

আমি দেখেছি রাজনীতির ভেলায় চড়ে মন্ত্রির ছেলে 
যোগ্যতা নেই তবু প্রফেসর হয়েছে,  
আজ দেখছি গ্রামের দরিদ্র মেধাবী ছেলেটা 
পিএইচডি হয়েও বেকারের জ্বালা ঘোচাতে ডোমের কাজ করছে। 

আমি দেখেছি অনেকেই __
বিন্দু বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পৌঁছেছে, 
আজ দেখছি তাদের অনেকেই দম্ভ অহংকারের তরে
 সিন্ধু  হতে বিন্দুতে নেমে গেছে। 

আমি দেখেছি শান্ত স্নিগ্ধ পৃথিবীর বুকে 
মানুষের শান্তিতে বসবাস, 
আজ দেখছি আমার পৃথিবীর বুকে 
দাঙ্গা হিংসা আর গোলা বারুদের উন্মত্ততার ছাপ।

আমি দেখেছি দিনের পর দিন
মানুষের অত্যাচারে সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে গেছে, 
আজ দেখছি আমার পৃথিবী 
কঠিন অসুখে পরে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

-------------------------------------------------

শ্রী বিজয় সরকার 
কবি ও লেখক 
রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ 
--------------------------------------------------
Voice Literary Blog 

Saturday, 18 July 2020

করোনা আবহে শিক্ষাব্যবস্থা --শিবাণী মণ্ডল।



   শিক্ষা ব্যতীত জাতির ক্রমমুক্তি নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অগণিত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত, শিক্ষা পিপাসু জনসাধারণ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। শিক্ষা এবং শিক্ষণ ব্যবস্থা অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যোগমিলনের ক্ষেত্রে অনন্ত বিশ্বের বিপুল জ্ঞানরাজি, ভাব ও চিন্তার আদান-প্রদানে পরিশীলিত ভাবীকালের রূপরেখা তৈরী করে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই। ছাত্র অর্থাৎ আগামী প্রজন্মের ভাবাবেগ ও চিন্তন শক্তিকে সুচারুভাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নামই শিক্ষা, যা অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে মুক্তির সঠিক পথ নির্দেশ করে। অতীতের গুরুকূল শিক্ষা ব্যবস্থা এখন আর নেই, এখন শিক্ষার আদান-প্রদান পর্ব স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির মধ্যে ন্যস্ত। প্রাথমিক থেকে ক্রমশঃ উচ্চতর শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সোপান গড়া হয়ে থাকে স্কুল-কলেজেই। পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়াও আদর্শ, নীতিগত ধ্যান-ধারণা ও মূল্যবোধের পরিকাঠামো নির্মিত হয় শিক্ষা প্রাঙ্গণে ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমেই। 
   কিন্তু বর্তমানের অতিমারী কোভিড-১৯ বা নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সারা পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেছে। অবরুদ্ধ জনজাতি সম্ভাব্য ধ্বংসের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে। প্রতিষেধক অনাবিষ্কৃত থাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধে একমাত্র উপায় স্বাস্থ্য সচেতন ভাবে পরিচ্ছন্ন থেকে দূরত্ব বিধি মেনে চলা। এই পরিস্থিতি বর্তমানে সমগ্র মানবজাতিকে নির্বাসিত করেছে এক অন্ধকূপে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বর্তমান শিক্ষাবর্ষের প্রায় শুরু থেকেই, এর ফলে যেমন শিক্ষা দান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে প্রগতির পথ। শিক্ষা প্রাঙ্গণগুলি বন্ধ থাকায় শুধুই যে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যেকার আদান-প্রদান বন্ধ হয়েছে, তা নয়, চরমভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে সামগ্রিক বিকাশের পরিসরটুকুও। 
   চির-দারিদ্র্য-নিপীড়িত ভারতবর্ষের অর্থনৈতিকভাবে নিম্নবর্গীয় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক শিক্ষাগ্রহণের সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল স্কুলে দ্বিপ্রাহরিক ভোজন বা ‘মিড-ডে মিল’-এর ব্যবস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থাপনার সুফল-কুফলের বিতর্ক পরিহার করে যদি দেখা যায়, সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী হওয়ার সেই সম্ভাবনাও বিনষ্ট হয়েছে। যদিও সরকারের তরফে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে খাদ্য-সামগ্রীর প্রয়োজনীয় রসদ জোগানোর প্রচেষ্টা চলছে। 
   এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেক সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট নির্ভর ‘অনলাইন’ পঠন-পাঠনের ব্যবস্থায় উদ্যোগী হয়েছে, যদিও যথেষ্ট পরিকাঠামোর অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাত্র-ছাত্রীরা এই শিক্ষাগ্রহণে অপারগ। কারণ, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রযুক্তিবিদ্যা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজলভ্য নয়। তাছাড়া শহরাঞ্চল ব্যতীত অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নতমানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম না থাকার দরুন, নিয়মিত অনলাইন পঠন-পাঠনে অংশগ্রহণ ও সবার পক্ষে সম্ভবপর হয় না। এছাড়াও এই অনলাইন শিক্ষণ ব্যবস্থায় পুঁথিগত বিদ্যা বা থিওরী পড়ানো সম্ভব হ’লেও কারিগরিবিদ্যা বা প্রাকটিক্যাল কোনোভাবেই সম্পাদন সম্ভব নয়। সর্বোপরি, হঠাৎ করে পরিস্থিতির চাপে শুরু হওয়া এই নতুন ব্যবস্থাপনায় ছাত্র এবং শিক্ষক - উভয়েরই নিজেদেরকে মানিয়ে গুছিয়ে নিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হ’তে হচ্ছে। শিক্ষকদের যোগ্যতা বা ছাত্রদের আগ্রহ - দুইয়ের কোনোটারই অভাব না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থাপনার সাথে মানিয়ে না নিতে পারার জন্য ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু আদান-প্রদান। 
   এই স্তব্ধ পরিস্থিতিতে ব্যাহত হয়েছে পরীক্ষা ব্যবস্থাও। শুধুমাত্র সংক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হয়েছে বহু পরীক্ষা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও। মূল্যায়ন ক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার কারণে সুযোগ ও সংস্থান থেকে বঞ্চিত হ’তে হয়েছে বহু পরীক্ষার্থীকেই। 
   ভয়াবহ করোনা কবলিত আবহে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা, যার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হ’ল, অগ্রসরের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া। যদিও শিক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে বিজ্ঞান এই মারণ ভাইরাসের প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে সচেষ্ট, তবুও বর্তমানের থমকে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে বর্তমানসহ আগামী প্রজন্ম যে বেশ কিছুটা পিছিয়ে গেল, সে কথা বলাই বাহুল্য। এই দমবন্ধ-করা পরিস্থিতির কবে আর কোথায় শেষ, তার উত্তর সময়ই দেবে, এবং সেই শেষের পর আবার নতুন করে শুরুর আশা বুকে নিয়ে দিন গুনছে সবাই।।

Cppyrights@ S Mandal
-------------------------------------------------

শিবানী মন্ডল 
কবি-লেখিকা 
ঝাড়খন্ড, ভারতবর্ষ 

---------------------------------------------------------------

       Voice Literary Blog 
       Editor - Bijoy Sarkar 

Sub-Editor - Monowar Hossain 

       ..... Chief Organizer.....
           Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice---------------

Sunday, 12 July 2020

নাগরিকতা জ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য --শিবাণী মণ্ডল


   মানুষের সমাজ ও সভ্যতা বহু সাধনার ধন। আদিম বর্বর আরণ্যক জীবন এবং আধুনিক উন্নত জীবনধারা - এই দুই দিগন্তের বিপুল ব্যবধানের মধ্যে লুক্কায়িত ক্রমোন্নয়নের বিস্ময়কর ইতিহাস, যার মর্মবাণী ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’। 
   নবলব্ধ উন্নত চেতনায় নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে যেদিন যুক্ত হয়েছিল অপরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ভাবনা, সেদিন জাগ্রত হয়েছিল সামাজিক বোধ, সূচিত হয়েছিল নাগরিকতা জ্ঞান। ‘নাগরিক’ বা ‘নাগরিকতা’ শব্দবন্ধের সাথে ‘নগর’ শব্দের সাদৃশ্য থাকলেও ‘নাগরিকতা জ্ঞান’-এর অর্থ বহুব্যঞ্জক। প্রাচীন পৃথিবীতে যে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, ‘নাগরিকতা জ্ঞান’ শব্দটির উদ্ভব সেই কুণ্ঠিত পটক্ষেপে। ব্যক্তিগত, ব্যষ্টিগত এবং সমষ্টিগত অধিকারগুলির সংরক্ষণের জন্য নৈতিক দায়বদ্ধতায় সার্বজনীন কল্যাণের মন্ত্রে সুশিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তির প্রয়োগই হ’ল ‘নাগরিকতা জ্ঞান’। কিন্তু উন্নত সামাজিক চেতনা বা সোস্যাল কনশাসনেস ও প্রকৃত নাগরিকতা বোধ বা সিভিক সেন্স সমার্থকই, অর্থাৎ উন্নত নাগরিকতা জ্ঞান সমুন্নত সামাজিক চেতনারই রকম-ফের এবং তা কেবল নগরকেন্দ্রিক নয়, গ্রাম-গঞ্জ-শহর নির্বিশেষে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। 
   সমাজবদ্ধ সকল মানুষের কল্যাণে উন্নত নাগরিকতা জ্ঞানের প্রকৃত অভিজ্ঞান যার সাথে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। ভারতবর্ষের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিরকাল অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক। এ ব্যাপারে ব্রিটিশদের কাছে প্রত্যাশা থাকলেও তাদের ভারত-বিদ্বেষী ও বঞ্চনা-প্রবণ মনোভাবের দরুন আশাভঙ্গ ঘটেছিল। ভারতবর্ষের বর্তমান জনস্বাস্থ্য-বিভাগ ব্রিটিশ শাসনেরই উত্তরাধিকার। বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপিত হ’লেও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার চিত্র পূর্ববৎ মসীলিপ্ত। এই কেন্দ্রগুলি জনমানসে স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে উন্নত নাগরিকতার জ্ঞানের বিকাশে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। 
   স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার বিকাশ মূলতঃ দুটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল - দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শিক্ষার বিস্তার। ভারতবর্ষের প্রায় একশো তিরিশ কোটি জনসংখ্যার সিংহভাগই বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী। অসম্পূর্ণ শিক্ষার ও অজ্ঞতার অন্ধকারে অধিকাংশ ভারতবাসীই নির্বাসিত। সঙ্গত কারণে হীনমন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা বিশাল অসচেতন জনগোষ্ঠীর কাছে, উন্নত নাগরিকতা জ্ঞান ও স্বাস্থ্য সচেতনতা আশা করা দুরাশা মাত্র, যার ফলে দেশের সমগ্র পরিবেশই অস্বাস্থ্যকর, আবর্জনা ও রোগব্যধির জীবাণু পরিপূর্ণ। জনভার জর্জরিত শহরগুলি তার স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যধিহীনতার কৃত্রিম পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে গ্রাম-গঞ্জের শ্রমিকশ্রেণী জীবন-জীবিকার স্বার্থে নির্মিত শহরের পরিবেশকেও জ্ঞানের অভাব ও স্বাস্থ্য-অসচেতনতার শিকার করে তুলছে প্রতিনিয়ত। 
   বর্তমানে অতিমারী কোভিড-১৯ এর প্রকোপ সেই অসচেতনতাকেই দর্শায়। উত্তরোত্তর সংক্রমণ বৃদ্ধি, আক্রান্তের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের বেপরোয়া জীবনযাপনের অতিমাত্রার নিদর্শন প্রকারান্তরে শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করে। সেই সাথে সরকারের তরফে যথোপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব সমগ্র দেশবাসীকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। একমাত্র সচেতনতাই এর প্রতিকার। 
   এই নৈরাশ্যজনক রূপ চিত্রণের পরিবর্তনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সেই সাথে প্রয়োজন শিক্ষার সুসংগঠিত পরিকাঠামো। শিক্ষা প্রসারে নাগরিকতা জ্ঞান যেমন বিকশিত হবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য সচেতনতাও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল হ’লে, সার্বিক বিকাশের পূর্ণায়ন সম্ভব হবে। এই দুইয়ের মধ্যস্থতায় সারা দেশে ফুটে উঠবে এক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সুন্দর আগামী। কিন্তু বর্তমানের নিরিখে এই আশার যৌক্তিকতা কতটা, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।।

Copyrights@ S Mandal 
----------------------------------------------- 
শিবানী মন্ডল 
কবি-লেখিকা 
ঝাড়খন্ড, ভারতবর্ষ 

---------------------------------------------------------------

       Voice Literary Blog 
       Editor - Bijoy Sarkar 

Sub-Editor - Monowar Hossain 

       ..... Chief Organizer.....
           Chandan Mahanta  

Voice Literary-Cultural Organization
---------------------Voice---------------